দুর্নীতি করলে ক্ষমা নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী 

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের জবাবদিহিতা জনগণ ও সংসদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীসহ আমাদের সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কোনো ‘পার্সেন্টেজ-টার্সেন্টেজ’ নেই, দুর্নীতি করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।  শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করেছে। সিপিডির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে; সেটার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের কাজগুলো করছি। দুর্নীতি ধরার জন্য দুদককে লাগিয়েছি। আমরা কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবো না, কারণ দিন শেষে আমাকে ভোটারের কাছে ভোট চাইতে যেতে হবে। রংপুর বিভাগও দেশের অন্য অঞ্চলের মতো সমান সহযোগিতা পাবে বলে আশা প্রকাশ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্য দশটা অঞ্চল যেরকম সহযোগীতা পায় আমরা চেষ্টা করবো রংপুর বিভাগ বর্তমানটা তো পাবেই, বক

দুর্নীতি করলে ক্ষমা নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী 

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের জবাবদিহিতা জনগণ ও সংসদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীসহ আমাদের সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কোনো ‘পার্সেন্টেজ-টার্সেন্টেজ’ নেই, দুর্নীতি করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না। 

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করেছে। সিপিডির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে; সেটার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের কাজগুলো করছি। দুর্নীতি ধরার জন্য দুদককে লাগিয়েছি। আমরা কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবো না, কারণ দিন শেষে আমাকে ভোটারের কাছে ভোট চাইতে যেতে হবে।

রংপুর বিভাগও দেশের অন্য অঞ্চলের মতো সমান সহযোগিতা পাবে বলে আশা প্রকাশ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্য দশটা অঞ্চল যেরকম সহযোগীতা পায় আমরা চেষ্টা করবো রংপুর বিভাগ বর্তমানটা তো পাবেই, বকেয়াটাও যেন পায় তা আমরা চেষ্টা করব।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একসঙ্গে ৩০০টি সংসদীয় আসনে শুরু হবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি যাবে। ফ্যামিলি কার্ডের কাছে কারো যেতে হবে না। প্রশিক্ষিত লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটারে ডাটা এন্ট্রি করবে। অটোমেটিক জেনারেট হবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত। ফ্যামিলি কার্ড সবাই পাবে কিন্তু উপকারভোগী নির্বাচিত হবে কম্পিউটারে স্কোরিংয়ের মাধ্যমে। এটি সর্বোচ্চ ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় চালু হবে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তা এখন সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেওয়া আর্থিক সহায়তাও একই পদ্ধতিতে বিতরণ করা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমেছে এবং উপকারভোগীরা সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের সেবায় বর্তমানে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেলাই, কম্পিউটার, প্লাম্বিং, মোবাইল মেরামত ও হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিতরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

গণতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে ভোটাধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সভায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow