দুর্লভ জিনিসে ভরা জীমের সংগ্রহশালা
প্রাচীন নানা সামগ্রী জমিদারি তলোয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ক্যামেরা, টেলিফোন, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও অটোগ্রাফসহ বই, বিভিন্ন বিশেষ সংখ্যার পত্রিকা, পুরাতন পত্রিকা, দেশি-বিদেশি ব্যাংকনোট এবং মুদ্রা, বোতাম ও এন্টিকের গহনাসহ নানা পুরাতন জিনিসপত্রে ভরা ওয়াজেদ হোসেন জীমের সংগ্রহশালা। জাদুঘর তৈরির ইচ্ছায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশাল এক সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধার ওয়াজেদ হোসেন জীম। তিনি গাইবান্ধা শহরের পলাশপাড়ায় নিজ বাড়িতে জড়ো করেছেন নানা দুর্লভ জিনিস। বাহির থেকে দেখার কোনো উপায় নেই, বাড়িটির ভিতরে শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যে লুকিয়ে আছে। গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোডে পিবিআই অফিসের পার্শ্বেই বাড়িটির অবস্থান। সম্প্রতি সেই বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাড়িরে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল বইয়ের লাইব্রেরি। সাজানো রয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাসসহ বিভিন্ন গুনি লেখকের বই। ঘরের ভিতরে দেখা যায়, শত বছরের স্মৃতির চিহ্ন দিয়ে সাজানো সংগ্রহশালা। এক দশক ধরে দুলর্ভ সব সামগ্রী খুঁজে খুঁজে জড়ো করছেন এ তরুণ। প্রাচীন যুগের মুঘল সাম্রাজ্য বা ইন্দোগ্রিক যুগের জিনিসপত্র খুঁজে যাওয়া যাবে গাইবান্ধার এ বাড়িটিতে। বিভিন্ন প্রজন্মের
প্রাচীন নানা সামগ্রী জমিদারি তলোয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ক্যামেরা, টেলিফোন, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও অটোগ্রাফসহ বই, বিভিন্ন বিশেষ সংখ্যার পত্রিকা, পুরাতন পত্রিকা, দেশি-বিদেশি ব্যাংকনোট এবং মুদ্রা, বোতাম ও এন্টিকের গহনাসহ নানা পুরাতন জিনিসপত্রে ভরা ওয়াজেদ হোসেন জীমের সংগ্রহশালা।
জাদুঘর তৈরির ইচ্ছায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশাল এক সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন গাইবান্ধার ওয়াজেদ হোসেন জীম। তিনি গাইবান্ধা শহরের পলাশপাড়ায় নিজ বাড়িতে জড়ো করেছেন নানা দুর্লভ জিনিস। বাহির থেকে দেখার কোনো উপায় নেই, বাড়িটির ভিতরে শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যে লুকিয়ে আছে।
গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোডে পিবিআই অফিসের পার্শ্বেই বাড়িটির অবস্থান। সম্প্রতি সেই বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাড়িরে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল বইয়ের লাইব্রেরি। সাজানো রয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাসসহ বিভিন্ন গুনি লেখকের বই। ঘরের ভিতরে দেখা যায়, শত বছরের স্মৃতির চিহ্ন দিয়ে সাজানো সংগ্রহশালা। এক দশক ধরে দুলর্ভ সব সামগ্রী খুঁজে খুঁজে জড়ো করছেন এ তরুণ। প্রাচীন যুগের মুঘল সাম্রাজ্য বা ইন্দোগ্রিক যুগের জিনিসপত্র খুঁজে যাওয়া যাবে গাইবান্ধার এ বাড়িটিতে।
বিভিন্ন প্রজন্মের টেলিফোন, রেডিও, ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিসিআর, ভিসিআর ক্যাসেট, টিভি, মিনি টিভি, টাইপ মেশিন, টর্চলাইট, ম্যাচ বক্স, মোবাইল, আতর, সুরমাদানি, কাজল দানি, সিঁদুর কৌটা, পানির বোতল, হুঁকা, কুপি, অটোগ্রাফসহ বিভিন্ন বিশেষ সংখ্যার পত্রিকা, পুরাতন পত্রিকা, দেশি-বিদেশি মুদ্রা, বোতাম এবং এন্টিকের গহনাও বাদ যায়নি এ তরুণের সংগ্রহ থেকে।
বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশুনা শেষ করছেন ওয়াজেদ হোসেন জীম। তিনি দীর্ঘদিন থেকে লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত। তার প্রকাশিত বই যোজন যোজন দূরে, সারাবেলা, অপ্রতিরোধ্য বিমল সরকার, বেলা যে মোর অনেক হলো, সরোজ দেব রচনাবলি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা পেশায় জড়িত। তার স্ত্রী মাকসুদা ইশরাত মিম একজন গৃহিণী। জীম দুই সন্তানের জনক।
জীমের বন্ধু সৈকত সরকার বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই জীম। লেখালেখির পাশাপাশি পুরাতন জিনিস পত্র সংগ্রহ করতেন। আমরা তাকে নিয়ে অনেক ট্রল করতাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি পুরাতন এসব জিনিস আগামী প্রজন্মের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা হারানো ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
স্ত্রী মাকসুদা ইশরাত মিম বলেন, ‘যখন দেখেছি তিনি মানুষের ফেলা দেওয়া জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন, শুরুর দিকে খারাপ লাগত। বকাবকি করতাম ঘর-বাড়ি নোংরা হচ্ছে। পরে ধীরে ধীরে বুঝলাম, তার সংগ্রহের মধ্য অনেক কিছু লুকিয়ে আছে। তখন তাকে আর কিছু বলিনি। এক পর্যায়ে আমিও কোনো পরিচিতদের বাসায় গেলে তাদের পুরাতন জিনিস সংগ্রহ করা শুরু করি। আল্লাহ’র রহমতে আমাদের সংগ্রহ করা জিনিসপত্র থেকে আগামী প্রজন্ম অনেক পুরাতন ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।‘
জীমের বাবা এটিএম ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে ছোট ওয়াজেদ হোসেন জীম। শৈশব থেকেই প্রাচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করা তার অভ্যাস। আমি তাকে মাঝে মধ্যে জিজ্ঞেস করতাম এগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করবা। তখন আমার কাছে র্যাক বানানোর আবদার করতেন এবং পুরাতন জিনিস সংগ্রহ করতে তার ভালো লাগে বলে জানাতেন।’
ওয়াজেদ হোসেন জীম বলেন, ‘আমি ছোটোবেলা থেকে এসব প্রাচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করি। এসব জিনিস থেকে আগামী প্রজন্ম ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবে। পরে সংগ্রহশালাটিকে জাদুঘর তৈরির ইচ্ছা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার কাছে এমন অনেক জিনিস আছে, যেগুলো বর্তমান প্রজন্ম নিজের চোখে দেখেনি। এগুলো নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।’
ওয়াজেদ হোসেন জীম আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান নতুন প্রজন্মের কাছে। এজন্য নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যর বিশাল সম্ভার।
আনোয়ার আল শামীম/কেজে/এএসএম
What's Your Reaction?