দেশের সব জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’। দিবসটি উপলক্ষে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, গ্রন্থাগারমুখী সমাজ সৃষ্টি এবং জ্ঞানভিত্তিক মননশীলতা বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘গ্রন্থাগার ও জ্ঞানচর্চা: একুশ শতকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনীষ চাকমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মফিদুর রহমান বলেন, গ্রন্থাগারে শুধু একাডেমিক পাঠ্যপুস্তক নয়, পাঠ্যবইয়ের বাইরের সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক বইয়ের উপস্থিতিও জরুরি। সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞানভিত্তিক বই, নাটক ও প্রবন্ধ পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একসময় পাড়া-মহল্লাভিত্তিক পাঠাগারের সংস্কৃতি ছিল, যা পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে সেই সংস্কৃতি অনেকটাই কমে এসেছে। গ্রন্থাগারকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে এলাকাভিত্তিক পাঠাগার সম্প্রসারণ জরুরি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও বলেন, সংস্কৃতি একটি মৌলিক স্তম্ভ, যা মানুষকে আজীবন চিন্তার আলোয় আলোকিত করে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ কম থাকে। তাই এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে শুধু রাজধানী নয়, দেশের সব জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, পাঠচক্র, বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসন, আর্কাইভস ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ গ্রন্থকারিক ও তথ্যায়নবিদ সমিতি, বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একযোগে দিবসটি উদযাপন করে।