দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ মধ্যে রয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ মধ্যে রয়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। উৎপাদন সক্ষমতা ও সেই সক্ষমতার ব্যবহারযোগ্যতার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হওয়ায় জনগণের সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে সরকার পাঁচটি উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিতুমীর। তিনি বলেন, সেগুলো জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। রোববার (১৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম। তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। এ ব্যবধানের কারণে রাষ্ট্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে সক্ষমতা তৈরি করা ব্যবসায়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, তার অনেকগুলো নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই করা হয়েছে। পরে সেগুলোকে

দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ মধ্যে রয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ মধ্যে রয়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। উৎপাদন সক্ষমতা ও সেই সক্ষমতার ব্যবহারযোগ্যতার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হওয়ায় জনগণের সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি জ্বালানি খাতে সরকার পাঁচটি উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিতুমীর। তিনি বলেন, সেগুলো জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম।

তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। এ ব্যবধানের কারণে রাষ্ট্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ বহন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে সক্ষমতা তৈরি করা ব্যবসায়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, তার অনেকগুলো নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই করা হয়েছে। পরে সেগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে যে ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো প্রয়োজন ছিল, তা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে এখন দেশকে একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশও চাপের মুখে পড়েছে, যদিও এ পরিস্থিতির জন্য দেশের কোনো দায় নেই। ‘কেতাবি অর্থনীতিতে’ মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হলেও জবাবদিহিতামূলক সরকারের জন্য সেটি সহজ নয়, কারণ এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল দাবি করে তিতুমীর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের কারণেই আবার মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তবে ভর্তুকির তুলনায় মূল্য সমন্বয় খুবই সামান্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি কাঠামো ও জ্বালানি মিশ্রণে বড় পরিবর্তন আনা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুতের মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।

তিতুমীরের ভাষ্য, অতীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে একটি ‘অলিগার্কিক ব্যবস্থার’ দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আমদানিনির্ভর নীতির কারণে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি এবং এখন তার প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি নির্ভরতা থেকে জ্বালানি সক্ষমতায় যেতে হবে। এ জন্য দেশীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং অনুসন্ধান কার্যক্রমে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জ্বালানি উৎসের জন্য নির্দিষ্ট মজুতের বেঞ্চমার্ক নির্ধারণেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

এসএম/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow