দেশে আজও ভূকম্পন; ঢাকায় ভূমিকম্প নিয়ে যা জানা গেল

ভোলার মনপুরা উপজেলায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ভূকম্পনের কারণে পুরো দ্বীপের বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন দালান-কোঠা কেঁপে ওঠে। হাজিরহাট মার্কাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. ইউসুফ বলেন, ফজরের নামাজের সময় পুরো মসজিদ কাঁপতে থাকে এবং মুসল্লিরা এটি স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের মনিপুর ও আসামসহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে ভোলার মনপুরা উপকূলে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকায় ভূমিকম্প ঝুঁকি বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞরা সতর্কঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। শহরটি প্রধানত নরম মাটি ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্পের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদরা মনে করাচ্ছেন, ঢাকা শহরের পূর্বাঞ্চল এবং তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, “নরম মাটির উপর নির্মিত অনেক ভবন কম্পনের সময় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে। তাই জরুরি

দেশে আজও ভূকম্পন; ঢাকায় ভূমিকম্প নিয়ে যা জানা গেল

ভোলার মনপুরা উপজেলায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ভূকম্পনের কারণে পুরো দ্বীপের বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন দালান-কোঠা কেঁপে ওঠে।

হাজিরহাট মার্কাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. ইউসুফ বলেন, ফজরের নামাজের সময় পুরো মসজিদ কাঁপতে থাকে এবং মুসল্লিরা এটি স্পষ্টভাবে অনুভব করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের মনিপুর ও আসামসহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে ভোলার মনপুরা উপকূলে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকায় ভূমিকম্প ঝুঁকি বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক
ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। শহরটি প্রধানত নরম মাটি ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্পের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদরা মনে করাচ্ছেন, ঢাকা শহরের পূর্বাঞ্চল এবং তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, “নরম মাটির উপর নির্মিত অনেক ভবন কম্পনের সময় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভবনগুলোর সুরক্ষা ও নগর পরিকল্পনা উন্নত করা প্রয়োজন।”

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো—বিশেষত পাকিস্তান ও ভারতের গুজরাট ও রাজস্থান—ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে কম্পন ঘটেছে। এর প্রভাব ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিজিএমইএ) ইতিমধ্যেই নগরবাসীকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন আয়োজন করেছে। এতে ভূমিকম্পকালীন নিরাপদ স্থান, জরুরি সরঞ্জাম ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো শেখানো হয়।

ভূমিকম্প ঝুঁকি ও সম্ভাব্যতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় নির্দিষ্টভাবে কখন ভূমিকম্প হবে তা বলা সম্ভব নয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বিজ্ঞানীরা কেবল ঝুঁকি ও সম্ভাব্যতা নির্ধারণ করতে পারেন।

ঢাকা নদীর তীরবর্তী নরম মাটিতে অবস্থিত। আশেপাশের সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চল থেকেও কম্পন ঢাকায় অনুভূত হতে পারে। চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা ও ভারতের ত্রিপুরা–সিলেট অঞ্চলে অতীতে তীব্র ভূমিকম্প ঘটেছে, যা ঢাকায় কম্পনের আকারে অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকায় মাঝারি বা ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। তবে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প (৬ রিখটার স্কেল বা তার বেশি) বিরল হলেও সংঘটিত হলে প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পুনর্ব্যক্ত করছেন, ঢাকায় ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ, পুরোনো কাঠামোর সংস্কার ও জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow