দেড় কোটি টাকার সেতু যখন ভোগান্তির কারণ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কারণ সেতুটির দুই পাশে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করা হয়েছে ব্রিজ কিন্তু কোনো রাস্তার সংযোগ এই ব্রিজের সঙ্গে না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। সেতুর একপাশে ভাঙাচোরা সড়ক, অন্যপাশে পুকুর খালের ওপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিকল্প হিসেবে এটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো সুফল মিলছে না স্থানীয়দের। এ ছাড়াও জনগণের যাতায়াত সুবিধা ও এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হয়; কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় কোটি কোটি টাকার সেতুটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসছে না। সেতুর পাশে বসবাসকারী সোলাইমান মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি ও দায়িত্ব
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কারণ সেতুটির দুই পাশে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করা হয়েছে ব্রিজ কিন্তু কোনো রাস্তার সংযোগ এই ব্রিজের সঙ্গে না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। সেতুর একপাশে ভাঙাচোরা সড়ক, অন্যপাশে পুকুর খালের ওপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়।
পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিকল্প হিসেবে এটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো সুফল মিলছে না স্থানীয়দের।
এ ছাড়াও জনগণের যাতায়াত সুবিধা ও এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হয়; কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় কোটি কোটি টাকার সেতুটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসছে না।
সেতুর পাশে বসবাসকারী সোলাইমান মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণে এটি জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। বরং বর্ষা মৌসুমে সেতুর আশপাশে পানি জমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, ঘটছে বড় বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ৭নং বজরা ইউনিয়নে বুজুর্গ একজন ব্যক্তি আছেন, যাকে সবাই সাহেব হুজুর বলে চেনে। তার উছিলায় এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ না হলে সরকারের এই ব্যয় জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।
সেনবাগ উপজেলা থেকে সোনাইমুড়ী উপজেলায় চলাচলের অন্যতম সহজ পথ এই সড়কটি কিন্তু পুরোনো সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলায় ও রেলিং না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, এ ছাড়া খারাপ রাস্তার কারণে যানবাহন বিকল হচ্ছে। বিভিন্ন সময় আহত হচ্ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
সিএনজিচালক ফারুক জানান, এই ব্রিজটি পাঁচ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। এটি নির্মাণ করলেও কোনো রাস্তার সংযোগ দেওয়া হয়নি। এতে বিভিন্ন সময় গাড়ি দুর্ঘটনা হয় বা নষ্ট হয়ে যায়। গাড়িচালক ও যাত্রীর অনেক কষ্ট করতে হয়। পুরোনো ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন খোকন জানান, তার ইউনিয়নের মানুষ সোনাইমুড়ী উপজেলায় যেতে এ রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ব্রিজটির কারণে তারা বিভিন্ন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নতুন ব্রিজের সঙ্গে রাস্তা সংযোগ করে দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, অধিগ্রহণ না হওয়ার কারণে ব্রিজটির সঙ্গে রাস্তার সংযোগ বাকি রয়েছে। নির্বাচন শেষ হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি জানান।
What's Your Reaction?