দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ৬ নম্বর আটঘর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, মা ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকায় ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে প্রায় ২১ হাজার মানুষের বসবাস। সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে এখানে একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এখানে কোনো ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় কেন্দ্রটি প্রায় বন্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু ও প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অসুস্থ হলে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া আমাদের পক্ষে খুব কষ্টকর। আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী নারীরা নিয়মিত চেকআপ করাতে পারত, এখন সেই সুয

দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ৬ নম্বর আটঘর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, মা ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকায় ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে প্রায় ২১ হাজার মানুষের বসবাস। সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে এখানে একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এখানে কোনো ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় কেন্দ্রটি প্রায় বন্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু ও প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অসুস্থ হলে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া আমাদের পক্ষে খুব কষ্টকর। আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী নারীরা নিয়মিত চেকআপ করাতে পারত, এখন সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন আছে, কিন্তু ডাক্তার কিংবা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এখন কারো কোনো সমস্যা হলে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ফরিদপুর শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে।

দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

প্রসূতি নাসিমা খাতুন বলেন, আমাদের জন্য এই হাসপাতালটি খুবই প্রয়োজনীয়। নিয়মিত চেকআপ করাতে পারলে অনেক ঝুঁকি কমে যেত। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এখন বাধ্য হয়ে দূরে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মো. মাহফুজ খান বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ২১ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এখানে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ না থাকায় মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দেয়। আটঘর ইউনিয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী ফরুক আহমেদ বলেন, ফরিদপুর জেলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক/পরিদর্শিকা সংকট রয়েছে। প্রতি ১০ জনের বিপরীতে মাত্র ২ জন রয়েছে। যে কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। অচিরেই হয়ত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow