দোয়ার মাধ্যমে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী খুরুজের জোড়
সরকারের অনুমতিক্রমে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড় দোয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের উদ্যোগে আয়োজিত এ খুরুজের জোড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি)। শেষ হয় রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে। খুরুজের জোড় শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সীমিত পরিসরে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের বড় সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিরা সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করেন। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলার সাথিদের নিজ নিজ জেলা থেকেই আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে খুরুজের জোড় টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দা
সরকারের অনুমতিক্রমে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড় দোয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের উদ্যোগে আয়োজিত এ খুরুজের জোড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি)। শেষ হয় রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে।
খুরুজের জোড় শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সীমিত পরিসরে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।
তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের বড় সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিরা সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করেন। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলার সাথিদের নিজ নিজ জেলা থেকেই আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে খুরুজের জোড় টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আয়োজন করা হয়নি। বরং বিদেশি খিত্তা ও টিনশেড মসজিদে সীমাবদ্ধ পরিসরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে মূলত ঢাকার আশপাশের শবগুজারির খুরুজে অংশগ্রহণকারী সাথিরা অংশ নেন। অন্যদিকে দেশের অন্য জেলার সাথীরা নিজ নিজ জেলা মারকাজ থেকে তাবলিগের সফরে বের হন।
হাবিবুল্লাহ রায়হান আরও জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন করে বিদেশি সাথিদের বাংলাদেশে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে ইতোমধ্যে যারা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং তাদের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে খুরুজের জোড় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, দাগেস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, জাপান, সৌদি আরব (কেএসএ), তুরস্ক, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, মক্কা, কুয়েত, ওমান, জর্ডান, তিউনিসিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, কিরগিজস্তান, মিয়ানমার, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, সোমালিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রায় ৭০টি দেশ থেকে আগত দুই হাজারের মতো বিদেশি মেহমান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে মাওলানা আহমদ লাট সাহেবসহ (দা.বা) বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার বাদ ফজর পাকিস্তানের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা উবায়দুল্লাহ খুরশিদ সাহেব হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া জামাতগুলোর জন্য দিকনির্দেশনামূলক এ বয়ান শেষে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে আখেরি দোয়া শুরু হয়ে শেষ হয় ৮টা ৪৪ মিনিটে। ‘আমিন… আমিন…’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে টঙ্গীর তুরাগতীরের আশপাশের এলাকা। দোয়া পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের।
এ খুরুজের জোড় থেকে বিদেশি মেহমানদের জামাতসহ বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় দেড় হাজার জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ৫৯তম টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
What's Your Reaction?