দ্রুত ফুরোচ্ছে অস্ত্রভান্ডার: টমাহক-থাড মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

চলমান ইরান যুদ্ধের চার সপ্তাহে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এত পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই সঙ্গে মজুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে মার্কিন কংগ্রেস সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড এর মোট মজুতের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েকটি থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছরের বেশি সময় লাগবে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারক কারখানাগুলো ধ্বংস করা। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়, তাই বিশ্বব্যাপ

দ্রুত ফুরোচ্ছে অস্ত্রভান্ডার: টমাহক-থাড মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

চলমান ইরান যুদ্ধের চার সপ্তাহে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এত পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই সঙ্গে মজুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেস সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড এর মোট মজুতের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েকটি থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছরের বেশি সময় লাগবে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারক কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়, তাই বিশ্বব্যাপী এর সরবরাহ সীমিত। আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে যা জিপিএস ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম।

পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা এখন ‘চিন্তার বিষয়’। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই স্টক শেষ হয়ে যেতে পারে। পেন্টাগনের অফিসিয়াল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমরা ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি—যা সামরিক ভাষায় গোলাবারুদ শেষ হওয়া বুঝায়।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার এবং তৈরি হতে দুই বছর সময় লাগে। পেন্টাগন এরই মধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে অপারেশন এপিক ফিউরি-এর সময় কয়েকটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এই হামলা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এত বেশি টমাহক ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের সম্ভাব্য সংঘাতে মিসাইল সরবরাহে বড় ফাঁক তৈরি হতে পারে এবং পুনঃউৎপাদনে কয়েক বছর সময় লাগবে।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow