দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত যত মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে রোববার (৭ জুন)। ঘটনার মাত্র ২০ দিন এবং অভিযোগ গঠনের সাতদিনের মাথায় রায় ঘোষণার এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই হত্যাকাণ্ডের পর মামলার তদন্ত, অভিযোগপত্র জমা, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের মতো পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া দু-তিন সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে মামলাটি শুধু একটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার নয়, বরং দেশের দ্রুত বিচারব্যবস্থার সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে এমন পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। অতীতেও কয়েকটি বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। তবে ঘটনা ঘটার পর থেকে রায় পর্যন্ত সময়ের হিসাবে রামিসা হত্যা মামলাটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুততম অবস্থানে রয়েছে। রামিসা আক্তার (মাঝে) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। কোলাজ ছবি: জাগো নিউজ রামিসা হত্যা মামলা: ২০ দিনের মধ্যে রায়ের পথে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর মি

দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত যত মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে রোববার (৭ জুন)। ঘটনার মাত্র ২০ দিন এবং অভিযোগ গঠনের সাতদিনের মাথায় রায় ঘোষণার এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই হত্যাকাণ্ডের পর মামলার তদন্ত, অভিযোগপত্র জমা, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের মতো পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া দু-তিন সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে মামলাটি শুধু একটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার নয়, বরং দেশের দ্রুত বিচারব্যবস্থার সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

তবে এমন পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। অতীতেও কয়েকটি বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। তবে ঘটনা ঘটার পর থেকে রায় পর্যন্ত সময়ের হিসাবে রামিসা হত্যা মামলাটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুততম অবস্থানে রয়েছে।

দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত মামলাগুলোরামিসা আক্তার (মাঝে) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। কোলাজ ছবি: জাগো নিউজ

রামিসা হত্যা মামলা: ২০ দিনের মধ্যে রায়ের পথে

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন।

পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিনে মামলাটি বিচারের জন্য নবগঠিত ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

ফলে ঘটনা থেকে রায় পর্যন্ত সময় দাঁড়াচ্ছে ২০ দিন। এর মধ্যে বিচারের কর্মদিবস হচ্ছে মাত্র সাতটি।

আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে জনমতের চাপ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি, তদন্ত সংস্থার বিশেষ তৎপরতা, রাষ্ট্রপক্ষের অগ্রাধিকারভিত্তিক মামলা পরিচালনা ও আদালতে ধারাবাহিক শুনানি।

রংপুরে ধর্ষণ মামলা: দুই মাসে বিচার

দেশের দ্রুত বিচারের ইতিহাসে প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে ২০২০ সালে রংপুরের একটি ধর্ষণ মামলার ঘটনা।

ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর মিঠাপুকুরে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই দিনই মামলা করা হয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ২৪ নভেম্বর রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনা থেকে রায় পর্যন্ত সময় লাগে ৬৬ দিন। তবে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পর বিচারিক কার্যক্রম মাত্র দুটি কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দ্রুত বিচারের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় প্রধান আসামি খালাস পান।

আরও পড়ুন
নুসরাত হত্যায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ
মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড
রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ৭২ দিনে মৃত্যুদণ্ড

মাগুরায় আট বছর বয়সী এক শিশু তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। এ অভিযোগে ৮ মার্চ শিশুটির মা সদর থানায় মামলা করেন। পরে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়।

তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ এপ্রিল চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২৩ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গঠন করেন। এরপর টানা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ঘটনা থেকে রায় পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ৭২ দিন এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে।

দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত মামলাগুলোমাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়/ফাইল ছবি

নুসরাত হত্যা: ৬ মাসে বিচার, ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

দ্রুত বিচারের উদাহরণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজীতে নুসরাতকে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই দিন হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৯ মে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ঘটনা থেকে রায় পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় সাড়ে ছয় মাস। তবে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে ৬২ কার্যদিবসে বিচার শেষ হওয়াকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হয়।

দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত মামলাগুলোনুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের কয়েকজন/ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত বিচারের পেছনে কী কাজ করে

আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে জনমতের চাপ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি, তদন্ত সংস্থার বিশেষ তৎপরতা, রাষ্ট্রপক্ষের অগ্রাধিকারভিত্তিক মামলা পরিচালনা ও আদালতে ধারাবাহিক শুনানি।

রামিসা হত্যা মামলার ক্ষেত্রে সরকার শুরু থেকেই দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেয়। গত ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন, এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও একই সুরে জানান, সরকার এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এর আগে, ২১ মে রাতে রামিসার বাসা পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি হওয়ার চারদিনের মধ্যেই, অর্থাৎ ২৪ মে’র মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

রামিসার মামলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- রাষ্ট্র চাইলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে সংবেদনশীল অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, এই সক্ষমতা শুধু আলোচিত মামলায় নয়, বরং সব নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সমানভাবে প্রয়োগ করা।- আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব

সরকারের এমন অবস্থানের কারণে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া অতি গতি পায়। এটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এই নতুন ট্রাইব্যুনালটি গঠন করেছে। এতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে, যিনি বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

দ্রুত বিচারে দরকার ন্যায়বিচারের ভারসাম্য রক্ষা

এ নিয়ে কথা হলে অ্যাডভোকেট মাহিয়া বিনতে মাহাবুব জাগো নিউজকে বলেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক অগ্রগতি দেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রায়ই বলা হয়, দেশে বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এই মামলা দেখিয়েছে যে রাষ্ট্র, তদন্ত সংস্থা, প্রসিকিউশন ও আদালত সমন্বিতভাবে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেও জটিল ও স্পর্শকাতর ফৌজদারি মামলার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব।

দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত মামলাগুলোদ্রুত বিচার হওয়া মামলাগুলো/ছবি: এআই নির্মিত

তবে তিনি মত দেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। এটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিচার দ্রুত হওয়া এবং বিচার সুষ্ঠু হওয়া- এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা, মাগুরার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং রংপুরের আলোচিত ধর্ষণ মামলার মতো ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার নজির দেখেছি। রামিসার মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে এর বিশেষত্ব হলো, ঘটনার পর থেকে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক- সবকিছু অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন সহিংসতা ও হত্যার মতো অপরাধ সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব মামলায় বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন হতাশ হয়, তেমনি সমাজেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাই দ্রুত ও কার্যকর বিচার অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।

আরও পড়ুন
একটি ছোট্ট কালো স্যান্ডেল, হ্যাঁচকা টান ও রামিসা
সালাহউদ্দিন আহমদ-ইলিয়াস আলী-চৌধুরী আলমসহ কয়েকশ গুমের তদন্ত জোরদার
অভিযোগ গঠনের শুনানি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই আইনজীবী বলেন, ‘রামিসার মামলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- রাষ্ট্র চাইলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে সংবেদনশীল অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, এই সক্ষমতা শুধু আলোচিত মামলায় নয়, বরং সব নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সমানভাবে প্রয়োগ করা।’

রায়ের পরও শেষ নয় আইনি প্রক্রিয়া

তবে বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণার মাধ্যমেই কোনো মামলার আইনি লড়াই শেষ হয়ে যায় না। যদি আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন, তাহলে আইন অনুযায়ী রায় অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করার সুযোগ পাবেন।

অ্যাডভোকেট মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি উচ্চ আদালতের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে।

এমডিএএ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow