ধর্ষণচেষ্টার শিকার ৩ শিশুর অবস্থার উন্নতি

চট্টগ্রামে তিন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক মনির হোসেনকে (৩০) শুক্রবার কারাগারে পাঠান আদালত। সেখানে তিনি ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।  অপরদিকে শুক্রবার (২২ মে) ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদেরও শনিবার আদালতে তোলা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানা শনিবার (২৩ মে) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন শিশুই আগের চেয়ে ভালো আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, তিনটি শিশুই বর্তমানে সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। শিশুরা বয়সে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্ত

ধর্ষণচেষ্টার শিকার ৩ শিশুর অবস্থার উন্নতি

চট্টগ্রামে তিন শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক মনির হোসেনকে (৩০) শুক্রবার কারাগারে পাঠান আদালত। সেখানে তিনি ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। 

অপরদিকে শুক্রবার (২২ মে) ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদেরও শনিবার আদালতে তোলা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানা শনিবার (২৩ মে) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন শিশুই আগের চেয়ে ভালো আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, তিনটি শিশুই বর্তমানে সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে।

শিশুরা বয়সে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা যেন এই মানসিক ট্রমা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ডবলমুরিং থানা এলাকায় ৭ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে খালি একটি প্লটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি লোকজন দেখতে পেয়ে অভিযুক্ত মো. এহসানকে (৫৫) ধরে পিটুনি দেন। পরে পুলিশ আসামিকে আটক করতে গেলে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। লোকজনকে বুঝিয়ে পুলিশ আসামি এহসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় এহসানকে আসামি করে এক শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার এহসান একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী।

অপরদিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চকলেট দেওয়ার কথা বলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন প্রতিবেশী মো. হাসান। শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে। 

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় প্রতিবেশী মো. হাসানকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তিন শিশুর খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

এ সময় মেয়র বলেন, তিন-চার বছরের মাসুম বাচ্চাদের ফুসলিয়ে, চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কেউ না কেউ নিয়ে যাচ্ছে। এটি একদিকে আমাদের সমাজের তীব্র নৈতিক অবক্ষয়, অন্যদিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০-৩০ টাকা দিয়ে ছোট শিশুদের একা একা দোকানে পাঠানো উচিত নয়, কারণ এই সুযোগেই ওঁত পেতে থাকা অপরাধীরা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্যের বরাত দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ৮ বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচে ৪২২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে রিপোর্ট না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ সময় কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের সুরক্ষায় চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার করার ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow