ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১৪ জানায়, মামলার পর থেকেই রিপন পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত ও নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। অভিযুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে কিশোরীকে বিভিন্ন সময় কনটেন্ট তৈরির কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নেওয়া হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগ
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ জানায়, মামলার পর থেকেই রিপন পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত ও নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। অভিযুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে কিশোরীকে বিভিন্ন সময় কনটেন্ট তৈরির কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নেওয়া হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা করেন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রিপনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’-এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখের উপরে।
ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান।
পরিবারটির দাবি, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন আগে থেকেই কিশোরীটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে।
সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালিসের কয়েকটি ভিডিও গত মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ কথার এক পর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন।
ভিডিওগুলো নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিসে করাকে আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন। এরপরই রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে রিপন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি গা ঢাকা দেন
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার ও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে বিচার নিয়ে আসে। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই। পরে আমরা এলাকাবাসী মিলে সালিসে বসেছিলাম। তারপর বলেছি আইনি পদক্ষেপ নিতে। সালিসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন পুলিশ এসেছে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে।’
এদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।’
ভুক্তভোগীর কিশোরীর মা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগের কথা জানতে পারেন।

বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
এইচ এম কামাল/এমআই/এমএমএফ
What's Your Reaction?
