ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকার রাস্তা
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসছে রাজধানী ঢাকার রাস্তা। ব্যস্ততার এই নগরী যেন আগামী কয়েক দিনের জন্য একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছে। রোববার (২৪ মে) বিকেলে অফিস শেষ হতেই বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন নগরবাসী। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার আগেই স্ত্রী-সন্তানকে পাঠিয়ে দিয়ে এখন নিজে রওনা হচ্ছেন। রোববারের সেই ব্যস্ততা পেরিয়ে সোমবার (২৫ মে) দুপুরের আগেই রাজধানীর অনেক সড়কে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করে। বিকেলের দিকে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, আগারগাঁও কিংবা ধানমন্ডির মতো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের তুলনায় যানজট নেই বললেই চলে। তবে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন পশুর হাটকেন্দ্রিক এলাকায় পরিবহনের চাপ দেখা গেছে। এতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা করা নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে এসব এলাকায় যান চ
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসছে রাজধানী ঢাকার রাস্তা। ব্যস্ততার এই নগরী যেন আগামী কয়েক দিনের জন্য একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে অফিস শেষ হতেই বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন নগরবাসী। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার আগেই স্ত্রী-সন্তানকে পাঠিয়ে দিয়ে এখন নিজে রওনা হচ্ছেন।
রোববারের সেই ব্যস্ততা পেরিয়ে সোমবার (২৫ মে) দুপুরের আগেই রাজধানীর অনেক সড়কে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করে। বিকেলের দিকে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, আগারগাঁও কিংবা ধানমন্ডির মতো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের তুলনায় যানজট নেই বললেই চলে।
তবে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন পশুর হাটকেন্দ্রিক এলাকায় পরিবহনের চাপ দেখা গেছে। এতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা করা নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে এসব এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি রয়েছে।
আগের দিন বিকেলের মতো সোমবার সকালেও সায়দাবাদে যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। সেই চাপ দুপুরেও দেখা যায়। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে শিশু, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাস কাউন্টারের সামনে টিকিট যাচাই আর যাত্রী ডাকার ব্যস্ততায় এক মুহূর্ত দম ফেলার সুযোগ ছিল না কর্মীদের।
সায়দাবাদে রয়েল কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা সুমন মিয়া নামের একজন বলেন, ‘গত দুইদিন ধরেই যাত্রীর চাপ অনেক বেড়েছে। রোববার অফিস শেষ হওয়ার পর চাপ অনেক বেড়ে যায়। আজ সকাল থেকেও প্রচুর চাপ রয়েছে। আমাদের গাড়ির সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যান্য পরিবহনেও বাস ছাড়ার আগেই সব সিট পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, ঢাকার ভেতরের রাস্তায় তেমন জ্যাম নেই। কিন্তু টার্মিনালের আশপাশে অনেক চাপ। আবার পশুর হাটের ট্রাকও আছে, যে কারণে যেসব এলাকায় হাট আছে, সেখানে যানজন সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য কিছু গাড়ি আসতে একটু দেরি হচ্ছে।
উত্তরা থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে আসা আকাশ পরিবহনের সহকারী মো. রাসেলের সঙ্গে কথা হয় বাড্ডায়। তিনি বলেন, ‘এই রুটে (উত্তরা থেকে গুলিস্তান) সব সময় যানজট লেগেই থাকে। এখন ঈদ উপলক্ষে ঢাকার মানুষ গ্রামে চলে গেছেন। এ কারণে রাস্তায় যানজট কম। সকালে কোথায় কোথাও জট ছিল। তবে দুপুরের পর রাস্তা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। এখন তেমন যানজট নেই। আগামীকাল রাস্তা আরও ফাঁকা হয়ে যাবে।’
গ্রামের বাড়ি বগুড়া যেতে খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হওয়া বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্ত্রী ও দুই সন্তানকে তিনদিন আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। অফিসে কাজ শেষ করে আমি আজ যাচ্ছি। ঢাকার ভেতরের রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা। তবে মানিকনগরে এসে যানজটে পড়েছি।’
মতিঝিল থেকে নতুন বাজারে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন খায়রুল হোসেন। তার সঙ্গে কথা হয় মধ্য বাড্ডা এলাকায়। তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে গতকালই ঢাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শহর ছেড়েছেন। যে কারণে আজ রাস্তায় মানুষের চলাচল কম। গাড়ির সংখ্যাও কম। রাস্তায় তেমন যানজট নেই। এমন রাস্তায় চলাচল করতে অন্যরকম মজা লাগে।’
রামপুরার বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, আজকে রাস্তায় বের হয়ে অবাক হয়েছি। বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম। রাস্তার কোথাও যানজট পাইনি, একদম ফাঁকা। এবার মনে হচ্ছে একটু আগেভাগেই ঢাকার রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।’
এমএএস/একিউএফ
What's Your Reaction?