ধেয়ে আসছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’, কী হতে পারে
বিশ্বজুড়ে আবারও শক্তিশালী জলবায়ু প্রপঞ্চ এল নিনো ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মেই এটি গড়ে উঠতে পারে এবং তা যদি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়—অর্থাৎ ‘সুপার এল নিনো’—তাহলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এল নিনো কী?এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এর বিপরীত অবস্থা হলো লা নিনা, যেখানে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকে। এই দুই অবস্থা এবং নিরপেক্ষ পরিস্থিতি মিলেই তৈরি হয় এল নিনো-দক্ষিণী দোলন (এনসো), যা সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পরিবর্তিত হয় এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কেন ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে আলোচনা?সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বাড়লে সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে এমন ঘটনা খুব কমবারই ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এমন কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যা ইঙ্গিত দিচ্ছে শক্তিশালী বা সুপার এল নিনো গড়ে উঠতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মে এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। আবহাওয়ায় কী
বিশ্বজুড়ে আবারও শক্তিশালী জলবায়ু প্রপঞ্চ এল নিনো ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মেই এটি গড়ে উঠতে পারে এবং তা যদি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়—অর্থাৎ ‘সুপার এল নিনো’—তাহলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এর বিপরীত অবস্থা হলো লা নিনা, যেখানে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকে।
এই দুই অবস্থা এবং নিরপেক্ষ পরিস্থিতি মিলেই তৈরি হয় এল নিনো-দক্ষিণী দোলন (এনসো), যা সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পরিবর্তিত হয় এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
কেন ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে আলোচনা?
সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বাড়লে সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে এমন ঘটনা খুব কমবারই ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এমন কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যা ইঙ্গিত দিচ্ছে শক্তিশালী বা সুপার এল নিনো গড়ে উঠতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মে এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ।
আবহাওয়ায় কী প্রভাব ফেলতে পারে?
এল নিনো বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। এটি বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে দেয়, ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় এবং অনেক অঞ্চলে খরা সৃষ্টি করে।
২০১৫ সালের একটি শক্তিশালী এল নিনোতে আফ্রিকার কিছু দেশে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়, আবার অন্যদিকে প্রবল ঝড় ও বন্যা আঘাত হানে।
সাধারণভাবে—
অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের কিছু অংশে খরা ও তাপপ্রবাহ বাড়তে পারে ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তাপমাত্রা কতটা বাড়তে পারে?
এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা সাময়িকভাবে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি শক্তিশালী এল নিনো হলে ২০২৭ সালে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কতটা নিশ্চিত এই পূর্বাভাস?
যদিও পূর্বাভাসে উচ্চ সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন—বসন্তকালের পূর্বাভাস অনেক সময় পরিবর্তিত হতে পারে। এই সময়কে “বসন্তকালীন পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা” বলা হয়, যখন আবহাওয়ার মডেলগুলো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনো আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী দেখাতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, এল নিনো ও লা নিনার পূর্বাভাস কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে—তবে এটি কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
What's Your Reaction?