নগরে বাগান করে বেড়ানো রকিবুল পাচ্ছেন জাতীয় পরিবেশ পদক

শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তার নেশা। ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পাচ্ছেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ এর স্বত্বাধিকারী মো. রকিবুল আমিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা রকিবুলের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শুরু শৈশবেই। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের বাগান। সেই বাগান দেখতে আশপাশের মানুষও আসতেন। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০০১ সালে ঢাকায় এসে। ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, শহরে গাছের চেয়ে কংক্রিটের উপস্থিতিই বেশি। সেই উপলব্ধিই তাকে ভাবতে শেখায়

নগরে বাগান করে বেড়ানো রকিবুল পাচ্ছেন জাতীয় পরিবেশ পদক

শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তার নেশা। ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পাচ্ছেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ এর স্বত্বাধিকারী মো. রকিবুল আমিন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা রকিবুলের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শুরু শৈশবেই। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের বাগান। সেই বাগান দেখতে আশপাশের মানুষও আসতেন। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০০১ সালে ঢাকায় এসে।

ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, শহরে গাছের চেয়ে কংক্রিটের উপস্থিতিই বেশি। সেই উপলব্ধিই তাকে ভাবতে শেখায়- নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে শহরও কিছুটা প্রাণ ফিরে পাবে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলের সাজসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, টেরারিয়াম, পেলুডারিয়াম ও ইনডোর গার্ডেনিংকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি। 

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, রিসোর্ট, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, আবাসন প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ইকোপার্ক, লেক এবং ব্যক্তিগত বাড়িতে সবুজায়নের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক ছোট-বড় ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গার্ডেনিং বাংলাদেশ। 

রকিবুল আমিন এখন ‘জিরো সয়েল’ ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, কোনো খোলা মাটি অনাবৃত রাখা উচিত নয়। ঘাস, লতা কিংবা অন্য কোনো উদ্ভিদ দিয়ে প্রতিটি ফাঁকা জায়গা ঢেকে দেওয়া সম্ভব। এতে যেমন নগর সবুজ হবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

রকিবুল এখন ‘গার্ডেন মিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। তার লক্ষ্য, সারা দেশে নগর সবুজায়নকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। একই সঙ্গে তিনি পলিথিনের আগ্রাসন কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন জনপ্রিয় করতে কাজ করতে চান।

রকিবুল আমিন বলেন, আমি চাই মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার গাছের কাছে যাক। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, মানুষের মনও ভালো রাখে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে পারলেই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।

দীর্ঘদিনের সেই সবুজ অভিযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার যুক্ত হলো জাতীয় পরিবেশ পদক। রকিবুলের বলেন, এই পুরস্কার আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow