নতুন রাস্তা হলো, তবুও দুর্ভোগ গেল না
রংপুরের তারাগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন হলেও দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হয়নি। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে তারাগঞ্জ চৌপথি থেকে কিশোরগঞ্জমুখী প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাজারের অগ্রণী ব্যাংক মোড় থেকে চারতলা মোড় (মুরগি হাটি) পর্যন্ত ১১০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজার এলাকায় যানজটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং, ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটবার শুক্রবার ও সোমবার যানজট চরম আকার ধারণ করে। সাধারণ পথচারী কুদ্দুস বলেন, পায়ে হাঁটারও উপায় নাই। রাস্তার দুই পাশে হোন্ডা আর ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। হাঁটার জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। আমরা কোন দিক দিয়ে হাঁটব? একাধিক
রংপুরের তারাগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন হলেও দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হয়নি। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে তারাগঞ্জ চৌপথি থেকে কিশোরগঞ্জমুখী প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাজারের অগ্রণী ব্যাংক মোড় থেকে চারতলা মোড় (মুরগি হাটি) পর্যন্ত ১১০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজার এলাকায় যানজটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং, ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটবার শুক্রবার ও সোমবার যানজট চরম আকার ধারণ করে।
সাধারণ পথচারী কুদ্দুস বলেন, পায়ে হাঁটারও উপায় নাই। রাস্তার দুই পাশে হোন্ডা আর ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। হাঁটার জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। আমরা কোন দিক দিয়ে হাঁটব?
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নতুন সড়ক নির্মাণের পর যানজট কমবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরং রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দখল ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় আগের মতোই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, মাছ বাজারের রাস্তা দিয়ে বিকেলের পর চলাচল করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট দোকান, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন বলেন, প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী মূল সড়কের সীমানা থেকে অন্তত ১ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) জায়গা ফাঁকা রেখে ভবনের সীমানা বা পার্কিং লট নির্মাণের বিধান রয়েছে। বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট বা বহুতল আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে নিজস্ব জায়গার ভেতরে অফ-স্ট্রিট পার্কিং নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে পার্কিং করার কোনো বিধান নেই।
তিনি আরও বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও সওজের ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো স্থায়ী স্থাপনা বা পার্কিংয়ের সীমানা মূল সড়কের কেন্দ্র থেকে ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ১৫ ফুট) অথবা রাস্তার সীমানা থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার দূরে থাকার কথা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু সড়ক উন্নয়ন করলেই হবে না, যানজট নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার এলাকায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পার্কিং ব্যবস্থা চালু, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল পাবে। তাদের অভিযোগ, তারাগঞ্জ হাটে নির্ধারিত মাছ বাজার থাকলেও সড়কের পাশে মাছের দোকান বসানোয় যানজট আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাজাদা ইমরান হানিফ বলেন, নতুন রাস্তা নির্মাণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। রাস্তার দুই ধারে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে যানজট ও অব্যবস্থাপনা বেড়েই চলেছে। শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, সবার সচেতনতা ও আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের সুফল অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নবনির্মিত তারাগঞ্জ বাজার সড়কের পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বাজার ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে।
What's Your Reaction?