নতুন শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিক্রিয়ায় যা বললো ভারত
জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ভারতসহ ৬০টির বেশি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি ও এ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জনশুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। লিখিত মতামত জমা দেওয়া যাবে ৬ জুলাই পর্যন্ত ও ৭ জুলাই জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রাপ্ত মতামত ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেকশন ৩০১-এর আওতায় চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কী ধরনের শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে? যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের প্রস্তাবিত নতুন শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। বুধবার ভোরে প্রকাশিত ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশ,
জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ভারতসহ ৬০টির বেশি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি ও এ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জনশুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। লিখিত মতামত জমা দেওয়া যাবে ৬ জুলাই পর্যন্ত ও ৭ জুলাই জনশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রাপ্ত মতামত ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেকশন ৩০১-এর আওতায় চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কী ধরনের শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের প্রস্তাবিত নতুন শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। বুধবার ভোরে প্রকাশিত ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশ, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার নিয়ম যথাযথভাবে কার্যকর করেনি।
অন্যদিকে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। জনমত গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যদি প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে ভারতসহ একাধিক দেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানি ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে, উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলনির্ভর খাতগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য কী?
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪ এর সেকশন ৩০১ (বি) (১) । কয়েক মাস আগে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল- সেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না ও সেই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না তা নির্ধারণ করা।
মঙ্গলবার ইউএসটিআর জানায়, ৫৪টি অর্থনীতি জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধকরণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, ইসরায়েল, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক দেশ। এছাড়া কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ইকুয়েডর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু পণ্যে ছাড়ের প্রস্তাব
ভারতীয় সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেকশন ২৩২-এর আওতায় এরই মধ্যে শুল্কের আওতায় থাকা পণ্য ও আরও কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এই নতুন প্রস্তাবিত শুল্কের বাইরে থাকবে। এছাড়া বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত কিছু অর্থনীতি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ
What's Your Reaction?