নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়ছে প্রতিশ্রুতি, কমছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজেট

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এগিয়ে নিতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকারের। দেওয়া হচ্ছে একের পর এক নীতিগত প্রতিশ্রুতি। অথচ বাজেটে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) বরাদ্দ ক্রমেই কমছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংস্থাটির কোনো অফিস নেই। রয়েছে লোকবল সংকট। এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ কার্যক্রমে গতি আনা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে তিন হাজার ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১০ বছরের প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৭শ ৪৩ মেগাওয়াট। এটাকে পাঁচ বছরে দ্বিগুণের বেশিতে নিতে চায় সরকার। নীতিগতভাবে সৌর, বায়ু ও অন্য সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজেট কাঠামোয় তার প্রতিফলন যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আমাদের একটাই অফিস, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিস নেই। এজন্য খরচ লিমিটেড। যেমন আমাদের বিল্ডিং ম্যানেজমেন্টের খরচ দেওয়া হয়, কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় এ খাতে অর্থ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়ছে প্রতিশ্রুতি, কমছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজেট

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এগিয়ে নিতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকারের। দেওয়া হচ্ছে একের পর এক নীতিগত প্রতিশ্রুতি। অথচ বাজেটে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) বরাদ্দ ক্রমেই কমছে।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংস্থাটির কোনো অফিস নেই। রয়েছে লোকবল সংকট। এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ কার্যক্রমে গতি আনা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে তিন হাজার ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১০ বছরের প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৭শ ৪৩ মেগাওয়াট। এটাকে পাঁচ বছরে দ্বিগুণের বেশিতে নিতে চায় সরকার।

নীতিগতভাবে সৌর, বায়ু ও অন্য সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজেট কাঠামোয় তার প্রতিফলন যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের একটাই অফিস, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিস নেই। এজন্য খরচ লিমিটেড। যেমন আমাদের বিল্ডিং ম্যানেজমেন্টের খরচ দেওয়া হয়, কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় এ খাতে অর্থ খরচ হয় না। সেটি আবার ফেরত চলে যায়।-স্রেডার সদস্য (অর্থ) হাবিবুর রহমান

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না বাড়লে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তার জন্য স্রেডার বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। সংস্থাটির অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জাতীয় বাজেটে ক্রমশ বরাদ্দ কমেছে স্রেডার

বিগত পাঁচ অর্থবছরে স্রেডার জন্য বরাদ্দ বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৩৪ দশমিক ১৭ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৪ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৬৫ কোটি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ দশমিক ১৯ কোটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ১৪ দশমিক ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

আরও পড়ুন

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ২.৩ শতাংশ, বেড়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি
সূর্যালোক কম থাকলেও অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে
নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, লাভবান চীন

স্রেডা সূত্র বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দের ৬০ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের ৭০ শতাংশ খরচ হবে। তাছাড়া প্রতি বছর বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের অনুকূলে ১০ শতাংশ বেতনের অর্থ বেশি বরাদ্দ আনা হয়, যাতে অর্থবছরের মধ্যে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করলে তার বেতন নিশ্চিত করা যায়। তবে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগ দিলে চলমান অর্থবছরে তার বেতন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।

স্রেডার সক্ষমতার অনেক অভাব। তাদের কাজে লাগাতে হবে। যদিও তাদের তেমন ক্ষমতা নেই। তবে তারা যেহেতু এই সেক্টর নিয়ে কাজ করেন, তাই তাদের স্বাবলম্বী করতে হবে। নবায়নযোগ্যে জ্বালানির প্রসারে তাদের আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ করে দিতে হবে।-জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন

স্রেডার কর্মকর্তারা বলেন, সরকার অফিস অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ দেয়। তাছাড়া বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে স্রেডার কোনো অফিস না থাকায় তারা কম বাজেট পান। গবেষণায়ও তেমন একটা বাজেট নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এছাড়া নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে জনগণকে সচেতন করা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলা দরকার।

সরকারের যুগ্মসচিব ও টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সদস্য (অর্থ) হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের একটাই অফিস, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিস নেই। এজন্য খরচ লিমিটেড। যেমন আমাদের বিল্ডিং ম্যনেজমেন্টের খরচ দেওয়া হয়, কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় এ খাতে অর্থ খরচ হয় না। সেটি আবার ফেরত চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এখন সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ। এ খাতেও তেমন একটা খরচ নেই। এছাড়া এবছর জ্বালানি খরচ কমাতে বলা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের ৭০ শতাংশ খরচ করতে পারবো।’

খাত অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয় জানিয়ে বলেন, ‘স্রেডার ট্রেনিং, প্রচার ও প্রকাশনা, সেমিনার এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে। এসব খাতে বরাদ্দ সীমিত। এতে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবো।’

পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতি আছে স্রেডায়। নীতি ও গবেষণা সেল থাকলেও একজন সদস্য তার গাড়িচালক ছাড়া আর কোনো অনুমোদিত জনবল না পাওয়ায় কার্যকর গবেষণা হয় না।

স্রেডার নীতিতে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি হাব’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বিভাগীয় জেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ের স্রেডার কোনো কার্যালয় নেই। এছাড়া দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্ভাব্যতা, গ্রিড লোড ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ সংরক্ষণে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

স্রেডা সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে অনুমোদিত ৪০টি পদ থাকলেও এর বিপরীতে ৩৩ জন কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটির দুশর বেশি লোকবল প্রয়োজন। একাধিকবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্রেডার সক্ষমতার অনেক অভাব। তাদের কাজে লাগাতে হবে। যদিও তাদের তেমন ক্ষমতা নেই। তবে তারা যেহেতু এই সেক্টর নিয়ে কাজ করে, তাই তাদের স্বাবলম্বী করতে হবে। নবায়নযোগ্যে জ্বালানির প্রসারে তাদের আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ করে দিতে হবে।’

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘স্রেডার জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিস নেই। তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।’

এনএস/এএসএ/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow