নাচ-গান-সংস্কৃতির কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত: শিক্ষা উপদেষ্টা

সমাজে ক্রমেই ‘বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা’ ভয়াবহ হারে বাড়ছে উল্লেখ করে যে কোনো ধরনের ‘একমাত্রিক চিন্তা’ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে; তাদেরকে রুখে দিতে হবে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন (বিএনইউসি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সি আর আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক সিদ

নাচ-গান-সংস্কৃতির কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত: শিক্ষা উপদেষ্টা

সমাজে ক্রমেই ‘বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা’ ভয়াবহ হারে বাড়ছে উল্লেখ করে যে কোনো ধরনের ‘একমাত্রিক চিন্তা’ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে; তাদেরকে রুখে দিতে হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন (বিএনইউসি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সি আর আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এগুলোর প্রকৃত মালিক।

ড. আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশ তরুণসমাজ। নতুন বাংলাদেশে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি প্রজন্মের নাগরিকরা তাদের অধিকার হারানোর তীব্র শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট তরুণসমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়ে সেই আশঙ্কা দূর করেছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্য শিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ ইউনেসকো কমিশনের (বিএনইউসি) ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ।

এএএইচ/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow