নামাজে ইমামের ভুল হলে লোকমা দেওয়ার নিয়ম

প্রশ্ন: নামাজে ইমামের ভুল হলে কী বলে লোকমা দেবেন? উত্তর: ইমাম যদি নামাজ পড়াতে গিয়ে কোনো ভুল করেন এবং মুক্তাদি অর্থাৎ যিনি তার ইমামতিতে নামাজ পড়ছেন নিশ্চিত হন যে ইমাম ভুল করছেন, যেমন তিনি দুই রাকাত পরবর্তী বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, চার রাকাত শেষ করেও পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন ইত্যাদি, তাহলে মুক্তাদির কর্তব্য ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়া। হাদিসে জোরে ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলে ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমর ইবনে আওফ গোত্রের একটি বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে যান। রাসুলের (সা.) অনুপস্থিতিতে আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবু বকরকে (রা.) নামাজ পড়াতে অনুরোধ করলেন। আবু বকর (রা.) নামাজ পড়ানো শুরু করার পর নবীজি উপস্থিত হয়ে নামাজে শরিক হলে সাহাবিরা হাতের ওপর হাত মেরে আওয়াজ করে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেন যেন তিনি নবীজিকে ইমামের দায়িত্ব দিয়ে পিছিয়ে আসেন। নামাজ শেষে নবীজি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের হাতে আওয়াজ করতে দেখলাম। কারণ কী? নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললে তার প্রতি

নামাজে ইমামের ভুল হলে লোকমা দেওয়ার নিয়ম

প্রশ্ন: নামাজে ইমামের ভুল হলে কী বলে লোকমা দেবেন?

উত্তর: ইমাম যদি নামাজ পড়াতে গিয়ে কোনো ভুল করেন এবং মুক্তাদি অর্থাৎ যিনি তার ইমামতিতে নামাজ পড়ছেন নিশ্চিত হন যে ইমাম ভুল করছেন, যেমন তিনি দুই রাকাত পরবর্তী বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, চার রাকাত শেষ করেও পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন ইত্যাদি, তাহলে মুক্তাদির কর্তব্য ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়া। হাদিসে জোরে ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলে ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমর ইবনে আওফ গোত্রের একটি বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে যান। রাসুলের (সা.) অনুপস্থিতিতে আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবু বকরকে (রা.) নামাজ পড়াতে অনুরোধ করলেন। আবু বকর (রা.) নামাজ পড়ানো শুরু করার পর নবীজি উপস্থিত হয়ে নামাজে শরিক হলে সাহাবিরা হাতের ওপর হাত মেরে আওয়াজ করে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেন যেন তিনি নবীজিকে ইমামের দায়িত্ব দিয়ে পিছিয়ে আসেন। নামাজ শেষে নবীজি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের হাতে আওয়াজ করতে দেখলাম। কারণ কী? নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললে তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হবে। হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য। (সহিহ বুখারি: ১২০১)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরুষদের উচিত ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলে ইমামকে সতর্ক করা। হাত দিয়ে আওয়াজ করে ইমামকে সতর্ক করা পুরুষদের জন্য সমীচীন নয়। তবে নারীরা যদি জামাতে উপস্থিত থাকেন এবং ইমামের কোনো ভুল ধরিয়ে দিতে চান, তাহলে তারা ‘সুবহানাল্লাহ’ না বলে বাম হাতের পিঠে ডান হাত মেরে আওয়াজ করে ইমামকে সতর্ক করতে পারেন।

আমাদের দেশে ইমামের ভুল হলে তাকবির দিয়ে অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইমামকে সতর্ক করা বা ভুল ধরিয়ে দেওয়া বেশি প্রচলিত। ‘আল্লাহু আকবার’ বললেও নামাজের সমস্যা হবে না। তবে সুন্নত হলো ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলা। নবীজি ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাহাবিরা তাই করতেন।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) একদিন চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন সাহাবায়ে কেরাম ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে ভুল ধরিয়ে দেন। (সুনান নাসাঈ: ১১৭৮)

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow