নামেই ‘নো হর্ন জোন’, শব্দদূষণে কান ঝালাপালা
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চোখে পড়ে ‘নো হর্ন জোন’, ‘নীরব এলাকা’ ও ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’ লেখাসংবলিত নানা সাইনবোর্ড। কিন্তু এসব নির্দেশনা আর বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। যানবাহনের অবিরাম হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের বিকট আওয়াজ, নির্মাণকাজের শব্দ আর ক্ষণে ক্ষণে মাইকিংয়ে কান ঝালাপালা হওয়ার দশা নগরবাসীর। হাসপাতালের রোগী ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- কেউই রেহাই পাচ্ছে না এই অদৃশ্য শব্দদূষণ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চট্টগ্রাম বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা ও যানজটের পাশাপাশি শব্দদূষণের নগরীতেও পরিণত হচ্ছে। অথচ এ সমস্যা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তুলনামূলক কম। ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়লেও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। জামাল খান মোড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইবোর্ডে (বাঁয়ে) এখন শোভা পাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন/ছবি: জাগো নিউজ পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগ গেছে ভেস্তে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালে জামাল খান মোড় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকাকে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা করেছিল পরিবেশ অধিদপ
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চোখে পড়ে ‘নো হর্ন জোন’, ‘নীরব এলাকা’ ও ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’ লেখাসংবলিত নানা সাইনবোর্ড। কিন্তু এসব নির্দেশনা আর বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
যানবাহনের অবিরাম হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের বিকট আওয়াজ, নির্মাণকাজের শব্দ আর ক্ষণে ক্ষণে মাইকিংয়ে কান ঝালাপালা হওয়ার দশা নগরবাসীর। হাসপাতালের রোগী ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- কেউই রেহাই পাচ্ছে না এই অদৃশ্য শব্দদূষণ থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চট্টগ্রাম বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা ও যানজটের পাশাপাশি শব্দদূষণের নগরীতেও পরিণত হচ্ছে। অথচ এ সমস্যা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তুলনামূলক কম। ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়লেও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
জামাল খান মোড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইবোর্ডে (বাঁয়ে) এখন শোভা পাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন/ছবি: জাগো নিউজ
পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগ গেছে ভেস্তে
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালে জামাল খান মোড় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকাকে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতিপূর্ণ এসব এলাকায় যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলা হয়েছিল তখন। এখন পাঁচ বছর পর সেখানকার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। দুই এলাকায় দিনভর বেজে চলেছে গাড়ির কর্কশ হর্ন। শব্দদূষণের মাত্রা কমার বদলে অনেক ক্ষেত্রে বরং বেড়েছে।
এছাড়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে হর্নমুক্ত ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল অধিদপ্তর। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইগারপাস, বাটালি হিল, জিলাপি পাহাড়, কোর্ট হিল, সিআরবি, ডিসি হিল, সার্সন রোড, জাম্বুরি ফিল্ড, ফয়েজ লেক ও বায়েজিদ লিংক রোড। সেই সঙ্গে আছে ওমেনস ইউনিভার্সিটি এলাকা, সমুদ্রসৈকত এলাকা, ঝাউতলা, নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, গোলপাহাড়, প্রবর্তক, চট্টেশ্বরী, মেহেদীবাগ, ওআর নিজাম রোড, এমএম আলী রোড এবং কেবি ফজলুল কাদের রোড। এসব এলাকায় অধিকাংশই হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল থাকায় সেখানে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করার কথা ছিল।
শব্দদূষণ আমাদের মন-মেজাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। হাসপাতাল এমনিতে রোগীতে ভরপুর। তার ওপর আছে শব্দদূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা। এটা রোগী ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।- ইএনটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোবারক হোসাইন
তবে বাস্তবে এসব এলাকার অধিকাংশেই নির্দেশ কার্যকর চোখে পড়ে না। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হর্ন বাজানো নিষেধ করে স্থাপন করা সরকারি সাইনবোর্ডও দখল হয়ে গেছে। জামাল খান মোড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সেই সাইনবোর্ডে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক ব্যানার টানিয়েছেন গাজী সিরাজ উল্লাহ নামের এক বিএনপি নেতা।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পাল্লা দিয়ে বাজে গাড়ির হর্ন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-সহ সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য হাসপাতাল এবং স্কুল ও কলেজের সামনে নীরবতা বজায় রাখার কথা থাকলেও বাস্তবতা এর উল্টো।
আরও পড়ুন
ঢাকা উত্তরে সবুজ বিপ্লব, দক্ষিণে ‘ধু ধু মরুভূমি’
জলবায়ুর অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ
বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন
এছাড়া নগরের পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, লালখান বাজার, চকবাজার, নিউমার্কেট ও টাইগারপাস এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই যানবাহনের তীব্র চাপ থাকে। আর যানজটে আটকে থাকা বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের চালকরা প্রায়ই অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজাতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সামনের গাড়ি চলার সুযোগ না থাকলেও পেছন থেকে অবিরাম হর্ন দেওয়া হয়।
সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় হর্নের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ শব্দের অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন, যা কয়েকশ মিটার দূর থেকেও মানুষের কানে তীব্র শব্দে আঘাত করে।
নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি শব্দ
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, নীরব এলাকায় দিনের বেলা শব্দের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবল। অথচ সংস্থাটি জরিপ অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডা. খাস্তগীর স্কুল এলাকায় এই মাত্রা পাওয়া গেছে ৭৫ দশমিক ৫ ডেসিবল, যা অনুমোদিত সীমার প্রায় দেড় গুণ।
যানজটে আটকে থাকা গাড়ির চালকরা প্রায়ই অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজাতে থাকেন/ছবি: সংগৃহীত
এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং (ইউএসটিসি), বাওয়া স্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজের সামনে সাড়ে ৭৮ ডেসিবল করে, পাহাড়তলী গার্লস স্কুলের সামনে ৭৬ দশমিক ৬, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ৭৪ দশমিক ৫ এবং জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সামনে সাড়ে ৭১ ডেসিবল শব্দের তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবাসিক এলাকাগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। যেখানে সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবল থাকার কথা, সেখানে খুলশী দক্ষিণ আবাসিকে সাড়ে ৭৬, হালিশহর কে-ব্লকে ৬৯, আমিরবাগে ৬৭ দশমিক ২ এবং কল্পলোক আবাসিকে সাড়ে ৬৬ ডেসিবল শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে। জিইসি মোড়ে শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে সাড়ে ৯৭ ডেসিবল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া আগ্রাবাদে ৮৮, সিইপিজেড মোড়ে সাড়ে ৮৭ এবং একে খান মোড় ও বহদ্দারহাটে সাড়ে ৮৪ ডেসিবল রেকর্ড করা হয়েছে।
জামালখান এরিয়া নো হর্ন জোন হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রতিনিয়ত শব্দদূষণ হচ্ছে। আমাদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান করবো।- ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার
হাসপাতাল এলাকায় নেই স্বস্তির পরিবেশ
নগরের স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র ওআর নিজাম রোড। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে ২০টিরও বেশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কাছেই অবস্থিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর যাতায়াতে ব্যস্ত থাকে এই সড়ক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের অবিরাম সাইরেন। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অ্যাম্বুলেন্সের বিকট শব্দ, যানবাহনের হর্ন ও যানজটের কারণে হাসপাতাল এলাকায় স্বস্তির কোনো পরিবেশ নেই। অনেক সময় গভীর রাতেও ফাঁকা সড়কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করতে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্স।
চিকিৎসকদের মতে, শব্দদূষণ রোগীর আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের রোগী, নবজাতক ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা রোগীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকির কারণ।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটক এলাকাকে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর/ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোবারক হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, শব্দদূষণ আমাদের মন-মেজাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। হাসপাতাল এমনিতে রোগীতে ভরপুর। তার ওপর আছে শব্দদূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা। এটা রোগী ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন।
শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত
নগরের অনেক স্কুল ও কলেজ প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। ক্লাস চলাকালে বাইরে থেকে আসা হর্নের শব্দ শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। পরীক্ষার সময় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিশুদের শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ ও মানসিক বিকাশের ওপর শব্দ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যারও কারণ হতে পারে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। মাত্রা হিসেবে শাস্তিও দিই। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া আছে।- পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাহিদুর রহমান
ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘শব্দদূষণ আমাদের সবার জীবনের জন্য ক্ষতিকর একটা জিনিস। যেটা শ্রবণে ও মেজাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। জামালখান এরিয়া নো হর্ন জোন হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রতিনিয়ত শব্দদূষণ হচ্ছে। আমাদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান করবো। আর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আমাদের সচেতনতা।’
সমাধানে প্রয়োজন আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়। এছাড়া নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার ও অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন
অস্তিত্ব সংকটে ‘নগর-বানর’
পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উদ্যোগ আছে, অগ্রগতি নেই
নীরব ঘাতক বায়ুদূষণ, বেশি ঝুঁকিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ
তা বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানে জরিমানা করা হয় এবং অবৈধ হর্ন খুলে ফেলা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযানের ধারাবাহিকতা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।
সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলছেন, শুধু জরিমানা বা অভিযান দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করে যানজট কমাতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা চালাতে হবে। নির্মাণকাজে শব্দ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।
জরিপ অনুযায়ী ডা. খাস্তগীর স্কুল এলাকায় শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে সাড়ে ৭৫ ডেসিবল, যা অনুমোদিত সীমার প্রায় দেড় গুণ/ছবি: জাগো নিউজ
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোজাহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। মাত্রা হিসেবে শাস্তিও দিই। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া আছে। তারা চাইলে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে পারবে।’
যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহযোগিতায় আমরা মাঝেমধ্যে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। অনেক সময় জরিমানা করি, শাস্তি দিই আবার হাইড্রোলিক হর্ন খুলে নিই। তবে মূল বিষয় হলো সাধারণ জনগণ ও নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া শুধু আইন প্রয়োগ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
এমআরএএইচ/একিউএফ
What's Your Reaction?