নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি এখন সময়ের দাবি

আফরিন আলম অথৈ বর্তমানে নারী ও পুরুষের পার্থক্যটা মূলত শারীরিক শক্তিমত্তা এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীদের পিছিয়ে রাখার জায়গাগুলো যদি লক্ষ্য করা হয়, তাহলে দেখা যাবে নারীদের এমন সব জায়গাতেই পিছিয়ে রাখা হয়ছে—যা মূলত শারীরিক শক্তিমত্তার সাথে সম্পর্কিত নয়। নারীরা এখনো পর্যন্ত যেসব স্থানে সুযোগ পাচ্ছে; সেগুলোর বেশিরভাগই শক্তিমত্তার সাথে সম্পর্কিত। যেমন- কৃষিকাজ, হস্তশিল্প কিংবা আধুনিক চাকরির ক্ষেত্র। যেখানে নারীরা পুরুষের সমান তালে একই শ্রম দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আজ থেকে দুই হাজার বছর আগের গ্রিসের সমাজব্যবস্থায় কিংবা বর্তমান সমাজেও নারীদের পিছিয়ে এবং দমিয়ে রাখার মূল কেন্দ্র হলো বুদ্ধিবৃত্তিকতা। আরও পড়ুন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রয়োজন প্রাচীন গ্রিসের সমাজে একজন নারী রাজনীতিবিদ, দার্শনিক কিংবা কবি হতে পারতেন না। কোনো আইনগত অধিকারের সুযোগ পেতেন না। এখন যদিও কাগজে-কলমে নারীদের এই সব সেক্টরে আসতে বাধা নেই। তবে সমাজের অদৃশ্য দেওয়াল এখনো নারীদের সেই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার বিপক্ষে। এখনো একজন নারী ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একজন নার

নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি এখন সময়ের দাবি

আফরিন আলম অথৈ

বর্তমানে নারী ও পুরুষের পার্থক্যটা মূলত শারীরিক শক্তিমত্তা এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীদের পিছিয়ে রাখার জায়গাগুলো যদি লক্ষ্য করা হয়, তাহলে দেখা যাবে নারীদের এমন সব জায়গাতেই পিছিয়ে রাখা হয়ছে—যা মূলত শারীরিক শক্তিমত্তার সাথে সম্পর্কিত নয়।

নারীরা এখনো পর্যন্ত যেসব স্থানে সুযোগ পাচ্ছে; সেগুলোর বেশিরভাগই শক্তিমত্তার সাথে সম্পর্কিত। যেমন- কৃষিকাজ, হস্তশিল্প কিংবা আধুনিক চাকরির ক্ষেত্র। যেখানে নারীরা পুরুষের সমান তালে একই শ্রম দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আজ থেকে দুই হাজার বছর আগের গ্রিসের সমাজব্যবস্থায় কিংবা বর্তমান সমাজেও নারীদের পিছিয়ে এবং দমিয়ে রাখার মূল কেন্দ্র হলো বুদ্ধিবৃত্তিকতা।

প্রাচীন গ্রিসের সমাজে একজন নারী রাজনীতিবিদ, দার্শনিক কিংবা কবি হতে পারতেন না। কোনো আইনগত অধিকারের সুযোগ পেতেন না। এখন যদিও কাগজে-কলমে নারীদের এই সব সেক্টরে আসতে বাধা নেই। তবে সমাজের অদৃশ্য দেওয়াল এখনো নারীদের সেই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার বিপক্ষে। এখনো একজন নারী ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একজন নারী সাহিত্যিককে এক চোখে দেখা হয় না। যেন সমাজ শিখিয়ে দিচ্ছে, নারী অর্থ উপার্জনের স্বাধীনতা পেলেও পেতে পারে। তবে এই বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গাগুলোতে নারীরা মানানসই নয়।

আসলে এখানেও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব খুব স্পষ্ট। মানুষ আসলে প্রাণিকুলের মধ্যে সেরা হয়ে উঠেছে—তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, শারীরিক শক্তিমত্তা দিয়ে নয়। আর তাই হয়তো, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বুদ্ধিবৃত্তিক এই বিস্তর জায়গাটায় নিজেরা একাই রাজ করতে চেয়েছে। কালে কালে নারীদের এটা-সেটা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয়, বুঝিয়ে দেয়, শিখিয়ে দেয়—নারী এটা করতে পারবে, আর এটা নারীর জন্য মানানসই নয়।

বর্তমানে এই ভুলিয়ে রাখার মেইন সেক্টর—রুপালি পর্দার সোনালি চাকচিক্য। নারী অধিকারের প্রশ্নে নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি এখন সময়ের দাবি। তাই একবিংশ শতাব্দির সভ্য পৃথিবীতে নারীকে ভোলানোর বিফল চেষ্টা বাদ দেওয়ার সময় এসেছে।

লেখক: শিক্ষার্থী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow