নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে

জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রণয়নাধীন শ্যাডো রিপোর্টে সিডও সনদের ধারা ২ এবং ১৬(১)(গ)-এর ওপর বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহারসহ নারীর মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি)’ প্ল্যাটফর্মের সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব মতামত উঠে আসে। সোমবার (৩ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জমা দেওয়া সিডও প্রতিবেদন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপনা করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, এবারের শ্যাডো রিপোর্টে সিডও সনদের ধারা ২ ও ১৬(১)(গ)-এর ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার, নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়নের প

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে

জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রণয়নাধীন শ্যাডো রিপোর্টে সিডও সনদের ধারা ২ এবং ১৬(১)(গ)-এর ওপর বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহারসহ নারীর মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি)’ প্ল্যাটফর্মের সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব মতামত উঠে আসে।

সোমবার (৩ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জমা দেওয়া সিডও প্রতিবেদন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপনা করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, এবারের শ্যাডো রিপোর্টে সিডও সনদের ধারা ২ ও ১৬(১)(গ)-এর ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহার, নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র, বৈষম্যমূলক আইন ও পারিবারিক আইন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি, পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি, মৌলবাদ ও ব্যাকল্যাশ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন, শিশুশ্রম, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং মব ভায়োলেন্সের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নাগরিক সমাজ প্রতি চার বছর পরপর সিডও অলটারনেটিভ ও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়ন করে থাকে। এবারের রিপোর্ট তৈরিতে ২০২২ সালে নাগরিক সমাজের জমা দেওয়া অলটারনেটিভ রিপোর্ট এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থানের ফলে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য, পরিবেশ ও জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সিডও সনদের ধারা ২ ও ১৬(১)(গ)-এর ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের বিষয়টিও এবারের শ্যাডো রিপোর্টে স্থান পাওয়া প্রয়োজন।

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, জাতিসংঘের সিডও কমিটির আসন্ন পর্যালোচনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন নারী অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সভায় উইমেন ফর উইমেন, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, একশনএইড, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, কর্মজীবী নারী, গণসাক্ষরতা অভিযান, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, দীপ্ত ফাউন্ডেশন, ব্লাস্ট, বহ্নিশিখাসহ বিভিন্ন সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী ও কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচটি/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow