নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্জ

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকারের নির্দেশে বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়। রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টানেন। এ সময় তিনি নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান। সংসদ সদস্যদের অনেকেই আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ফলে অধিবেশন কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাপতিমণ্ডলী বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জ

নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্জ

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকারের নির্দেশে বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টানেন। এ সময় তিনি নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান। সংসদ সদস্যদের অনেকেই আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ফলে অধিবেশন কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সভাপতিমণ্ডলী বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। 

স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়। এই তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে, তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।

বিতর্কিত এই মন্তব্যের বাইরে মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে বিএনপি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর দেশ পরিচালনায় তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। পাশাপাশি, কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্প গ্রহণ করায় এবং সিলেট ও নোয়াখালীর দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে, জামায়াত এবং নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে তার করা মন্তব্য ও সংসদের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির কারণে পুরো বাজেট আলোচনাই শেষ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে যায় এবং তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow