নারী ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১ নম্বর মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিভাস সরকার নূপুরের বিরুদ্ধে জমি ও রাস্তা নির্মাণ নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক নারী, তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  একজন জনপ্রতিনিধি কর্তৃক দিবালোকে নারী ও পুরুষকে লাঠিপেটার ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুর নিজের হাতে থাকা একটি চিকন লাঠি দিয়ে রাস্তার পাশে মাটি কাটারত অবস্থায় কয়েকজনকে উপর্যুপরি পেটাচ্ছেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ করলেও চেয়ারম্যানের হাত থেকে রেহাই পাননি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মারধরের ঘটনাটি গত ২৭ জুন ঘটলেও শনিবার (৪ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘুরি কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুরের বাড়িও একই এলাকায়। ভুক্তভোগী বাসন্তী

নারী ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১ নম্বর মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিভাস সরকার নূপুরের বিরুদ্ধে জমি ও রাস্তা নির্মাণ নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক নারী, তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

একজন জনপ্রতিনিধি কর্তৃক দিবালোকে নারী ও পুরুষকে লাঠিপেটার ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুর নিজের হাতে থাকা একটি চিকন লাঠি দিয়ে রাস্তার পাশে মাটি কাটারত অবস্থায় কয়েকজনকে উপর্যুপরি পেটাচ্ছেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারী প্রতিবাদ করলেও চেয়ারম্যানের হাত থেকে রেহাই পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মারধরের ঘটনাটি গত ২৭ জুন ঘটলেও শনিবার (৪ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘুরি কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুরের বাড়িও একই এলাকায়।

ভুক্তভোগী বাসন্তী রানী অভিযোগ করেন, তার বাবা সুনীল সরকার ও উপেন্ড মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজন ৪০-৫০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতাও করতেন। ২০১২ সালে তিনি সেই জমি নিজের স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় ১০ বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি কেবল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ২০২১ সালে মিনতি রানী জমিটি তার দুই মেয়ে রত্না ও বাসন্তীর নামে লিখে দেন।

বাসন্তী রানী আরও জানান, তার চাচা উপেন্ড সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। সে জন্য তাকে কিছু জমিও দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের নিজেদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের পাশে তাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর। অন্যায়ভাবে এই রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে (বাসন্তী রানী), তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং মেয়ে পায়েলে সাহাকে প্রকাশ্যে মারধর ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাস্তার নামে চেয়ারম্যান তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মহেড়া ও ছাওয়ালী বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ৭-৮ বছর আগে এই জমিটি নিয়ে চেয়ারম্যান বিভাস সরকার আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। তবে পরে মামলাটি আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই নারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা দুষ্টু প্রকৃতির লোক। এলাকার যেকোনো ভালো কাজে তারা সবসময় বাধা সৃষ্টি করে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ৭-৮ ফুট জায়গা রয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থেই সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। রাস্তা নির্মাণে ওই নারীসহ কয়েকজন বাধা দেওয়ায় কাজ সচল রাখতে আমি তাদের কেবল শাসন করেছি।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow