নারী কল্যাণ প্রকল্পে সুবিধাভোগীর তালিকায় ২৯ হাজার পুরুষ!
ভারতের মহারাষ্ট্রে নারীদের জন্য চালু করা বিশাল আর্থিক অনুদান প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাড়কি বহিন যোজনা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেয়ে আসছেন। এটি কোটি কোটি নারীর আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক হয়ে উঠলেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় হিসাব নিরীক্ষক সংস্থা। সাম্প্রতিক সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ায় এই প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের নামও। আরও পড়ুন চাকরি নেওয়ার ৪ দিন পরেই নারীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার সিকিউরিটি গার্ড জীবন বদলে দেওয়া একটি প্রকল্প মহারাষ্ট্রের সমভাজিনগর জেলার গৃহকর্মী নির্মলা বাওয়াস্কার। বিধবা এই নারীর দুই বছর আগেও নিজের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। নথিপত্রে টিপসই দিয়ে কাজ চালাতে হতো তাকে। কিন্তু ‘লাড়কি বহিন’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। প্রকল্পের সুবাদে তিনি নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পান এবং প্রথমবারের মতো নিজের হাতে টাকা পাওয়ার স্বাধীনতা পান। তার মতো আড়াই কো
ভারতের মহারাষ্ট্রে নারীদের জন্য চালু করা বিশাল আর্থিক অনুদান প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাড়কি বহিন যোজনা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেয়ে আসছেন। এটি কোটি কোটি নারীর আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক হয়ে উঠলেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় হিসাব নিরীক্ষক সংস্থা।
সাম্প্রতিক সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ায় এই প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের নামও।
জীবন বদলে দেওয়া একটি প্রকল্প
মহারাষ্ট্রের সমভাজিনগর জেলার গৃহকর্মী নির্মলা বাওয়াস্কার। বিধবা এই নারীর দুই বছর আগেও নিজের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। নথিপত্রে টিপসই দিয়ে কাজ চালাতে হতো তাকে। কিন্তু ‘লাড়কি বহিন’ প্রকল্প চালু হওয়ার পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। প্রকল্পের সুবাদে তিনি নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পান এবং প্রথমবারের মতো নিজের হাতে টাকা পাওয়ার স্বাধীনতা পান।
তার মতো আড়াই কোটিরও বেশি নারী এই প্রকল্পের আওতায় এসেছিলেন। তবে বিপুল এই কর্মযজ্ঞ চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়মের চিত্রও সামনে চলে এসেছে।
অডিটে ধরা পড়ল অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ম
গত মাসে ভারতের জাতীয় হিসাব নিরীক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়, মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ তাদের অনুমোদিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি রুপি বেশি খরচ করেছে। প্রকল্পের প্রথম অর্থবর্ষেই মোট ৩৩ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এছাড়া কোনো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ছাড়াই দেড় লাখ কোটি রুপির বেশি বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, যা আর্থিক শৃঙ্খলাকে দুর্বল করেছে বলে মত দিয়েছে নিরীক্ষক দল।
বাদ পড়ল ৯০ লাখ নাম, তালিকায় পুরুষও
এদিকে কড়া যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি বা পরিচয় নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে একে সরাসরি জালিয়াতি হিসেবে দেখতে নারাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অদিতি তাতকারে।
সরকারি তথ্য বলছে, যাচাইয়ের সময় এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়াদের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার পুরুষ এবং প্রায় আট হাজার সরকারি কর্মচারীর নামও পাওয়া গেছে।
অযোগ্যদের কাছ থেকে সেই অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজনৈতিক প্রভাব বনাম দীর্ঘমেয়াদি অর্থনীতি
২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে চালু হওয়া এই প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটকে বড় বিজয় এনে দিতে সাহায্য করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নারীদের একটি বড় অংশ এই প্রকল্পের কারণে বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়েছিলেন।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের নগদ অর্থ বিতরণের চেয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিশুযত্নের মতো জনসেবামূলক খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা বেশি জরুরি। এটি স্বল্প সময়ে ভোট টানতে পারলেও দীর্ঘ মেয়াদে রাজ্যের কোষাগারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি
কেএএ/
What's Your Reaction?

