নারী নার্সদের গল্প আসলে একেকটা সংগ্রামের গল্প

আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। ১২ মে বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেছেন। ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‌‘আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। হসপিটালে যখন কাজ করতাম; আমি, আয়া খালারা আর নার্স আপুরা একসাথে খেতাম। অনেক সময় উনারাই আমার জন্য খাবার নিয়ে আসতেন। আমার কাছে ওই খাবারগুলো অত্যন্ত তৃপ্তির ছিল। আমি যে হাসপাতালে কাজ করতাম; সেখানে একটা খুব হোমলি পরিবেশ ছিল। নার্স, ডাক্তার, আয়া খালারা সবাই মিলে আন্তরিক একটা পরিবার হয়ে কাজ করতাম। সেই জায়গা থেকে অসংখ্য নার্সের জীবনের গল্প খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। পুরুষ নার্স আর নারী নার্সদের জীবনসংগ্রাম এক না। নারী নার্সদের গল্প আসলে একেকটা সংগ্রামের গল্প। এই নার্স আপুরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের চাকরির টাকায় বাবা-মায়ের সংসারের হাল ধরেন, আবার নিজের পরিবারও চালান। হাসপাতালের দীর্ঘ ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে রান্না, বাচ্চা সামলানো, সংসারের দায়িত্ব সবকিছু একসাথেই সামলাতে হয় তাদের। কারণ তাদের বেতন এতটাই সীমিত যে, বাড়তি সাহায্য রা

নারী নার্সদের গল্প আসলে একেকটা সংগ্রামের গল্প

আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। ১২ মে বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেছেন।

ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‌‘আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। হসপিটালে যখন কাজ করতাম; আমি, আয়া খালারা আর নার্স আপুরা একসাথে খেতাম। অনেক সময় উনারাই আমার জন্য খাবার নিয়ে আসতেন। আমার কাছে ওই খাবারগুলো অত্যন্ত তৃপ্তির ছিল।

আমি যে হাসপাতালে কাজ করতাম; সেখানে একটা খুব হোমলি পরিবেশ ছিল। নার্স, ডাক্তার, আয়া খালারা সবাই মিলে আন্তরিক একটা পরিবার হয়ে কাজ করতাম। সেই জায়গা থেকে অসংখ্য নার্সের জীবনের গল্প খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। পুরুষ নার্স আর নারী নার্সদের জীবনসংগ্রাম এক না।

নারী নার্সদের গল্প আসলে একেকটা সংগ্রামের গল্প। এই নার্স আপুরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের চাকরির টাকায় বাবা-মায়ের সংসারের হাল ধরেন, আবার নিজের পরিবারও চালান। হাসপাতালের দীর্ঘ ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে রান্না, বাচ্চা সামলানো, সংসারের দায়িত্ব সবকিছু একসাথেই সামলাতে হয় তাদের। কারণ তাদের বেতন এতটাই সীমিত যে, বাড়তি সাহায্য রাখা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে পুরুষ নার্সদের সংগ্রামও আছে, কিন্তু অন্তত বাসায় ফিরে রান্না করা খাবারটা অনেকেই পেয়ে যান। নারী নার্সদের বাস্তবতা অনেক সময় আরও কঠিন।

প্রায়ই নার্সদের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু একজন মানুষকে যদি ১০ টাকার বেতন দিয়ে ২০০ টাকার কাজ করানো হয়, তাহলে তার মানসিক স্বাস্থ্য, ধৈর্য আর কাজের মান সবকিছুর ওপরই প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

তবুও এই নার্সরাই রাত জেগে রোগীর পাশে থাকেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে সবচেয়ে সামনে থেকে লড়েন। আন্তর্জাতিক নার্স দিবসে আমার সেইসব কলিগ নার্স এবং সব নার্সের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow