নাড়ির টানে শহর ছাড়ছে মানুষ, বৃষ্টির অস্বস্তি ছাপিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় দিনটি পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। পবিত্র এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই যান্ত্রিক নগরী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। ঈদের আগের দিন আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই ঢাকার বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে রাজধানীর গুলিস্তান বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর ও ব্যস্ত চিত্র। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের পরিবার ও ব্যাগ-পত্র নিয়ে টার্মিনালের দিকে ছুটে আসছেন। গণপরিবহনের পাশাপাশি অনেককে মোটরসাইকেলে করেও দূরপাল্লার গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। যাত্রীদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল এক বা একাধিক ব্যাগ ও লাগেজ। গ্রামে থাকা বাবা-মা, ভাই-বোন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় দিনটি পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।
পবিত্র এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই যান্ত্রিক নগরী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে কর্মজীবী মানুষ।
ঈদের আগের দিন আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই ঢাকার বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে রাজধানীর গুলিস্তান বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর ও ব্যস্ত চিত্র। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের পরিবার ও ব্যাগ-পত্র নিয়ে টার্মিনালের দিকে ছুটে আসছেন। গণপরিবহনের পাশাপাশি অনেককে মোটরসাইকেলে করেও দূরপাল্লার গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল এক বা একাধিক ব্যাগ ও লাগেজ। গ্রামে থাকা বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য অনেকেই সাধ্যানুযায়ী নতুন পোশাক ও প্রসাধনী কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে টার্মিনাল ও ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে মৌসুমি ফল বিশেষ করে আম ও লিচু কেনার ধুম পড়েছে। এছাড়া আপেল ও মালটার মতো বিদেশি ফলের দোকানেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।
গুলিস্তান এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রোকেয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জে থাকা তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন। বাবার প্রিয় ফল হিসেবে ২৫০ টাকা দিয়ে ৫০টি লিচু কিনেছেন তিনি, যা তার বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে এবারের বাড়ি ফেরার যাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটিয়েছে প্রকৃতি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন অনেক যাত্রী।
রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবু তাহের তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি প্রথমে বাসে করে নরসিংদী যাবেন এবং সেখান থেকে লঞ্চে করে সলিমগঞ্জ পৌঁছাবেন।
ভিজে যাওয়া কাপড়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে আবু তাহের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাসা থেকে যখন বের হয়েছিলাম তখন আকাশ পরিষ্কার ছিল, বৃষ্টি ছিল না। কিন্তু রাস্তায় অটোরিকশায় ওঠার পরই হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। জামাকাপড় ভিজে যাওয়ায় একটু অস্বস্তি তো হচ্ছেই বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে। তবে সব কষ্ট ভুলে যাচ্ছি এই ভেবে যে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারব। এই অনুভূতির কাছে এইটুকুন কষ্ট কিছুই না।’
হঠাৎ বৃষ্টি আর প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কিছুটা ধীর হলেও স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর তাড়া ও আনন্দের কাছে সব ভোগান্তিই যেন হার মেনেছে ঘরমুখী এ মানুষদের কাছে।
এমইউ/এমএমএআর
What's Your Reaction?