নিউজিল্যান্ডের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন ট্যারান্টের

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ গণ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালে। এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার দোষ স্বীকার করা জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কারাগারের কঠোর ও অমানবিক পরিবেশ তার মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটায় এবং সেই পরিস্থিতিতেই তিনি অপরাধ স্বীকারে বাধ্য হন। ২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসলিমকে হত্যা করেন ট্যারান্ট। মার্চ ২০২০ সালে তিনি ৫১টি হত্যা, ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই বছরের আগস্টে তাকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে বর্তমান আইনে এটিই প্রথম এ ধরণের সাজা। ২০২২ সালে ট্যারান্ট তার সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে আবেদন করায় আদালত তার আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা প্রথমে বিবেচনা করছে। ৩৫ বছর বয়সী ট্যারান্ট ৯ ফেব্রুয়ারি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী শুনানিতে সাক

নিউজিল্যান্ডের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন ট্যারান্টের

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ গণ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালে। এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার দোষ স্বীকার করা জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, কারাগারের কঠোর ও অমানবিক পরিবেশ তার মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটায় এবং সেই পরিস্থিতিতেই তিনি অপরাধ স্বীকারে বাধ্য হন।

২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জন মুসলিমকে হত্যা করেন ট্যারান্ট। মার্চ ২০২০ সালে তিনি ৫১টি হত্যা, ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

ওই বছরের আগস্টে তাকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে বর্তমান আইনে এটিই প্রথম এ ধরণের সাজা।

২০২২ সালে ট্যারান্ট তার সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে আবেদন করায় আদালত তার আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা প্রথমে বিবেচনা করছে।

৩৫ বছর বয়সী ট্যারান্ট ৯ ফেব্রুয়ারি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী শুনানিতে সাক্ষ্য দেন। তিন বিচারকের বেঞ্চের সামনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্ব, সীমিত বইপত্র এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় তিনি ‘চরম মানসিক অবসাদে’ ভুগছিলেন।

তার ভাষ্য, দোষ স্বীকারের সময় তিনি ‘নার্ভাস এক্সহস্টশন’-এ ভুগছিলেন এবং বিচার শুরুর কয়েক মাস আগে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বার্নাবি হজ ট্যারান্টের বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, তার গুরুতর মানসিক সংকটে থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

তিনি বলেছেন, ট্যারান্ট চাইলে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে বিচার পিছিয়ে দিতে পারতেন অথবা পূর্ণাঙ্গ বিচারে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করতে পারতেন।

নিজেকে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ট্যারান্ট বলেছেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের মানসিক অসুস্থতা আড়াল করেছিলেন যা তার রাজনৈতিক আদর্শের অংশ ছিল। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সময়মতো আবেদন করতে পারেননি।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শুনানির মূল বিষয় হলো-দোষ স্বীকারের সময় কারাগারের পরিবেশের কারণে ট্যারান্ট কি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন কি না। তিনি কারাবাসের পরিবেশকে ‘নির্যাতনমূলক ও অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

আদালত পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে রায় দেবে। যদি তার আবেদন মঞ্জুর হয়, তবে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে পাঠানো হবে এবং তাকে নতুন করে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আবেদন নামঞ্জুর হলে, চলতি বছরের শেষের দিকে সাজা সংক্রান্ত আপিলের শুনানি হবে।

শুনানিকে ঘিরে আদালতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেবল গণমাধ্যম, আইনজীবী ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের আদালত কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারদের জন্য ক্রাইস্টচার্চে বিলম্বিত সম্প্রচারের মাধ্যমে শুনানি দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্যারান্টের আইনজীবীদের স্থায়ীভাবে নাম গোপন রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কে এম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow