নিবন্ধন জালিয়াতি করে কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ

কীটনাশকের মান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। নিম্নমানের কীটনাশক আমদানি ও বাজারজাত, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পণ্য বিক্রি এবং ভেজাল মেশানোর মতো ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। তবে এবার অভিযোগ উঠেছে আরও গুরুতর অনিয়মের-নিবন্ধনই জাল করে কীটনাশক বাজারজাত করা হচ্ছে দীর্ঘদিন। একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় কীটনাশক নিবন্ধন ও বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, জেনারেল এগ্রো ক্যামিকেল লিমিটেড আধা ডজনেরও বেশি কীটনাশক বাজারজাত করছে প্রায় এক দশক ধরে। কিন্তু এসব পণ্যের কোনো নিবন্ধন নেই। জালিয়াতি করে ভুয়া নিবন্ধন দেখিয়ে পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। আরও পড়ুন আশিক চৌধুরী / ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল অর্থনীতির সুযোগ নিতে চায় বাংলাদেশ ওই প্রতিষ্ঠানের জেনিডা প্লাস ২.৫ ইসি, জিওবান ৫৫ ইসি, প্যানাসিয়া ৫ এসজি, ডাইজিম ৫০ ডব্লিউপি, রেইন ৪৮ ইসি, জেনেফস ৫৬ টিবি, জেনে-পান্ডা ৩৩ ইসি ব্র্যান্ড নামে পণ্য জালিয়াতি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। জানা গেছে, কীটনাশক নিবন্ধনের সময় একটি করে নিবন্ধন ও বাজারজাতের অনুমোদন শনাক্তকারী নম্বর (এপি) দেওয়া হয়। জেনারেল এগ্রো পণ্যের বিপ

নিবন্ধন জালিয়াতি করে কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ

কীটনাশকের মান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। নিম্নমানের কীটনাশক আমদানি ও বাজারজাত, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পণ্য বিক্রি এবং ভেজাল মেশানোর মতো ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে।

তবে এবার অভিযোগ উঠেছে আরও গুরুতর অনিয়মের-নিবন্ধনই জাল করে কীটনাশক বাজারজাত করা হচ্ছে দীর্ঘদিন। একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় কীটনাশক নিবন্ধন ও বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, জেনারেল এগ্রো ক্যামিকেল লিমিটেড আধা ডজনেরও বেশি কীটনাশক বাজারজাত করছে প্রায় এক দশক ধরে। কিন্তু এসব পণ্যের কোনো নিবন্ধন নেই। জালিয়াতি করে ভুয়া নিবন্ধন দেখিয়ে পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

ওই প্রতিষ্ঠানের জেনিডা প্লাস ২.৫ ইসি, জিওবান ৫৫ ইসি, প্যানাসিয়া ৫ এসজি, ডাইজিম ৫০ ডব্লিউপি, রেইন ৪৮ ইসি, জেনেফস ৫৬ টিবি, জেনে-পান্ডা ৩৩ ইসি ব্র্যান্ড নামে পণ্য জালিয়াতি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, কীটনাশক নিবন্ধনের সময় একটি করে নিবন্ধন ও বাজারজাতের অনুমোদন শনাক্তকারী নম্বর (এপি) দেওয়া হয়। জেনারেল এগ্রো পণ্যের বিপরীতে যেসব এপি নম্বর ব্যবহার করছে, সেগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজের নয়, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করছে। এছাড়াও পণ্যগুলোর কোনো বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা (পিটাক) কমিটি এবং সাব পিটাকেও অনুমোদন হয়নি বলে অভিযোগ আছে।

মূলত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং একেকটি পণ্যের ব্র্যান্ড নামের বিপরীতে লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন করে। তবে এই লাইসেন্সের চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ আসে বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা (পিটাক) কমিটি থেকে। অন্য বন্ধ একটি কোম্পানির এপি নম্বর ব্যবহারসহ সনদ জালিয়াতি করেছে কোম্পানিটি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেনারেল এগ্রো ক্যামিকেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সকল কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসতে পারতাম না। কেউ নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য, আমার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

তবে অনুমোদনের বৈধ কাগজপত্র তার কাছে দেখতে চাইলে তিনি সেগুলো দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একসময় সব ধরনের কীটনাশক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো ম্যানুয়াল সিস্টেমে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলো এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। যে কারণে এই ধরনের বিভিন্ন জালিয়াতির তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।

তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চাননি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কৃষি বিভাগের নজরদারি এড়িয়ে সুকৌশলে দীর্ঘদিন ধরে এই কোম্পানিটি এমন কাজ করে আসছে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর পরিমাণে নিম্নমানের কীটনাশক ধরা পড়ছে কৃষি কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে ভেজাল কীটনাশক বিক্রির পরিমাণ। এ অপরাধে ডজনেরও বেশি কীটনাশক বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এনএইচ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow