নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময়, সাইবার নিরাপত্তায় জোর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শিশু একাডেমিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শারমীন এস মুরশিদ বলেন, আর কোনোদিন যেন দেশ পুরনো ভঙ্গুর অবস্থায় ফিরে না যায়- এটা সামনের দিনে আপনারাই নিশ্চিত করবেন। নির্বাচনি প্রচারণায় কালো টাকা ব্যবহার বন্ধ হলে একসঙ্গে তিনটি সুফল মিলবে- নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, কালো টাকার দাপট কমবে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কমবে। তিনি জানান, আগামী ১৭ জানুয়ারি কুইক রেসপন্স টিমের পাশাপাশি একটি সাইবার টিম গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে। এটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। উপদেষ্টা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্যাতনের স্পটে পৌঁছানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। নারী প্রার্থীরা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাইবার বুলিং ও শারীরিক হামলা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং অন্তত অভয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে ১

নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময়, সাইবার নিরাপত্তায় জোর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শিশু একাডেমিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, আর কোনোদিন যেন দেশ পুরনো ভঙ্গুর অবস্থায় ফিরে না যায়- এটা সামনের দিনে আপনারাই নিশ্চিত করবেন। নির্বাচনি প্রচারণায় কালো টাকা ব্যবহার বন্ধ হলে একসঙ্গে তিনটি সুফল মিলবে- নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, কালো টাকার দাপট কমবে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কমবে।

তিনি জানান, আগামী ১৭ জানুয়ারি কুইক রেসপন্স টিমের পাশাপাশি একটি সাইবার টিম গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে। এটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে।

উপদেষ্টা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্যাতনের স্পটে পৌঁছানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। নারী প্রার্থীরা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাইবার বুলিং ও শারীরিক হামলা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং অন্তত অভয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে ১০৯ জন নারী স্বেচ্ছাসেবককে নারী প্রার্থীদের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

সভায় দেওয়া বক্তৃতায় রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নিজেদের চেইঞ্জ এজেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই পরিবর্তন সম্ভব। ভোট দিয়ে নারীরা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তিনি নারী প্রার্থী ও ভোটার উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

এ সময় ডা. তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি যেন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয়। পাশাপাশি হয়রানি ও হ্যারাসমেন্টমূলক কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা এবং কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, যারা নীতি-নির্ধারণী চেয়ারে বসেন, তারা কি সত্যিই চান নারীরা রাজনীতিতে আসুক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর সাইবার বুলিংয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আলোচনা যেন কেবল টেবিল টকে সীমাবদ্ধ না থাকে। গ্রামাঞ্চলের তৃণমূল নারীদের কণ্ঠস্বর শোনার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মেঘনা আলম বলেন, নিরাপত্তার অভাবে নারীরা ভোর বা রাতে প্রচারণায় নামতে পারেন না। তিনি সাইবার নিরাপত্তা সেল গঠনের প্রস্তাব দেন, যেন বিকৃত ছবি বা অপপ্রচার দ্রুত সরানো যায়।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা একমত হন যে, নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।

এসইউজে/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow