নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ড. ফয়জুল হকের ফেসবুক পোস্ট
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ড. ফয়জুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অভিযোগ করেন তিনি। ড. ফয়জুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হারার আসন হচ্ছে ঝালকাঠি-১ আসন। এই আসনটিতে আমি যখন প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হই, তা ছিল মাত্র তপশিল ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা। এর পূর্বে স্বতন্ত্র হিসেবে এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ভাইদের সহযোগিতায় গণসংযোগ করি। বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট আসন এটি। কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ ‘এ আসনে এমপি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী বীর উত্তম ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর। এমপি ছিলেন জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এমপি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বজলুল হক হারুন। নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগের সম্মানিত সিনিয়র নেতা, সাবেক মন্ত্রী জনাব আলহাজ আমির হোসেন আমু।’ ‘এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে জামায়াত
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ড. ফয়জুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অভিযোগ করেন তিনি।
ড. ফয়জুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হারার আসন হচ্ছে ঝালকাঠি-১ আসন। এই আসনটিতে আমি যখন প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হই, তা ছিল মাত্র তপশিল ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা। এর পূর্বে স্বতন্ত্র হিসেবে এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ভাইদের সহযোগিতায় গণসংযোগ করি। বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট আসন এটি। কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
‘এ আসনে এমপি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী বীর উত্তম ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর। এমপি ছিলেন জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এমপি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বজলুল হক হারুন। নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগের সম্মানিত সিনিয়র নেতা, সাবেক মন্ত্রী জনাব আলহাজ আমির হোসেন আমু।’
‘এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন করেছিলেন এবং ৯২৫ ভোট অর্জন করার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমাকে যখন নমিনেশন দেওয়া হয়, তখন অনেক মানুষই প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। হাজারও প্রতিবন্ধকতার মাঝে খুব অল্প সময়ে এই আসনটি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।’
‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরাসরি আমার এই আসনে কোন জাতীয় অতিথি কিংবা ১১ দলীয় জোটের কোনো শীর্ষ নেতার আগমন ঘটেনি। নমিনেশন থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিদিনই ছিল আমার জন্য চ্যালেঞ্জের! আমি ধর্মভিত্তিক ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় পেছনে অনেক কাজ করেছি। আসনটি এক সময় চরমোনাই জামাত জোটের হিসাবের তালিকায়ও জামাতের প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতি জোটের সমর্থন ছিল। পরে জোট ভেঙে যায়, নতুন করে আলোচনায় আসেন এনসিপি। সেই আলোচনা থেকেও মুক্তি পেয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী আমি হই।’
‘নির্বাচনের দিন আমার সঙ্গে কী ঘটেছে এবং তার দু’দিন আগে কী ঘটেছে, তা জনগণ স্পষ্টভাবে জানেন। এমন কোনো শক্তি ছিল না যা আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। আমার নাম ভাঙিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী কেন্দ্র থেকে যা টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তার চাইতেও দ্বিগুণ টাকা এনে এলাকার বিতরণ করেন। কেন্দ্রকে বুঝাতে সক্ষম হয়, এই সেই ফয়জুল, যাকে হারাতে হলে টাকার বিকল্প নেই। তারপরও জনগণ টাকার দিকে না তাকিয়ে আমাদেরকে নীরবে ভোট দিয়েছে।’
‘নির্বাচনের দিন সেন্টার দখল করা, জাল ভোট প্রদান, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপাতে আসাসহ নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জনগণ আমাদেরকে তাদের সর্বোচ্চ ভোট দিয়েছে। আমার কোনো ইউনিয়নে ব্যবসায়ী অভিভাবক ছিল না, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের প্রত্যেক ইউনিয়নে কমপক্ষে একজন বা দুজন করে কোটি টাকার উপরে ব্যয় করার মতো অভিভাবক ছিলেন। তারা ইউনিয়নগুলো কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারপরও জনগণ আমাদের সাথেই ছিল।’
‘আমাকে আমিরে জামায়াত যখন এলাকায় কাজ করতে বলেন, তখন তিনি একটি কথা বলেছিলেন, ঢাকায় আসবা না, এলাকায় মাটির সঙ্গে লেগে থাকো। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমিরে জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারিনি। আমাকে হারানোর জন্য জীবনে যারা রাজনীতিও করেননি এবং রাজনীতি করা হারাম মনে করেন, তারাও বিভিন্ন লিফলেট ছাপিয়ে তাদের কর্মীদের প্রকাশ্যে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। অপরাধ, আমি শুধু দাঁড়িপাল্লার প্রতি কে নির্বাচন করেছি। আমি অনেক ক্ষুদ্র এবং ছোট মানুষকে হারাতে আপনাদের ঘাম ঝরে যাবে যা দেখে সত্যিই আমি কষ্ট পেয়েছি।’
‘বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে আমাকে পরাস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তারা সফলও হয়েছে। আমি সফল হতে পারিনি; এটি আবার দুর্বলতা নয় বরং সরলতা। আমার দায়িত্ব ছিল ভোট সংগ্রহ করার জন্য জীবন উৎসর্গ করা, তা আমি ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেই ভোট কারা কেড়ে নিয়েছে, কিভাবে নিয়েছে, তা জনগণ যেমন জানে, আমার উপরে ওয়ালাও তেমনি ভাবে জানেন।’
‘সন্ধ্যার পরবর্তী সময়ে আমরা বিজয় মিছিল করলাম, কিন্তু রাত এগারোটার পরে রেজাল্ট উল্টে যায়। আমার এলাকায় ভোটের ব্যালটের চেয়ে গণভোটের ব্যালট সাড়ে আট হাজার কম দেখানো হয়েছে। তাদের বাড়ি তাড়াহুড়া করে ভোট কাটতে গিয়ে তারা শুধু ধানের শীষের ব্যালটে সিল মেরেছে। আমার হাতে অর্থ-সম্পদ নেই, নেই বড় কোনো পদ-দেবীর প্রভাব। আছে শুধু জনগণের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা নিয়েই সর্বোচ্চ লড়াইটুকু করেছি। সাধ্যের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আর্থিক সংকটে অনেক কিছু হয়তো করতে পারিনি। বড় বড় সভা-সমাবেশ করতে পারিনি, ভালোভাবে মাইকিং বা ব্যানার করতে পারিনি।’
‘অনেক কিছু না থাকার পরও বরিশাল বিভাগের মধ্যে কম ভোটে হারানো আসন এটি। যারা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে আমার সাথে কোনো সমস্যা না থাকার পরও আমার উপর জুলুম করেছে, মন থেকে চায়নি আমি এমপি হই, বহু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এদেরকে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে সোপর্দ করেছি। বুক ভরা আশা নিয়ে ৫ই আগস্টের পর দেশে এসেছি, সংসদে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলব ভেবে।’
‘দল পরিবর্তন করেছি শুধুমাত্র ইসলামী মূল্যবোধের শক্তিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য। রাজনৈতিক সুবিধা জনক সময়ে স্রোতের বিপরীতে এসে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে নির্বাচন করার ইতিহাস আর কেউ দুয়েকটি দেখাতে পারবেন না। যখন কেউ দল ছাড়ে না, তখন আমি দল ছেড়েছি। আমার বিশ্বাস মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে। মানুষের সেই ভালোবাসার প্রাপ্তি আমি কিভাবে দেবো, সেটাই চিন্তার বিষয়।’
‘আমার একটি অভ্যাস হলো কষ্টগুলো হৃদয় লালন করে রাখা, সহজে সব সবাইকে বলতে পারি না। মুহূর্তের মধ্যে স্বার্থের কারণে ইউ-টার্নও নিতে পারি না। সে কারণে মাঝে মাঝে নিজেকে বড্ড কষ্ট দিয়ে ফেলি। রাজনীতি অনেক দীর্ঘ সময়ের, তবে সেখানে অভিভাবক থাকতে হয়। অভিভাবক ছাড়া অনেক যোগ্য লোকও নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়ে।’
‘আমাদের মূল সমস্যা হলো প্রচুর কানে-কথাই বিশ্বাস করা; কেউ একটি রিউমার ছড়িয়ে দিলে তা ধরে রাখি। ঝালকাঠি অঞ্চলের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর আমার নানা। আমার পরিবারের মধ্যে আমি একমাত্র রাজনীতিতে আছি। ফ্যাসিবাদের আমলে সকল জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। টকশোতে অনলাইনে কথা বলেছি, মানুষকে ন্যায়ের পক্ষে উজ্জীবিত করেছি।’
‘আজ ভাবছি, জনতার জন্য এত কিছু করার পরও জনতার মাঝ থেকে কি আমার জীবনের জন্য একজন সাহসী অভিভাবক পাব না? বয় বৃদ্ধ আমিরে জামায়াত আমাকে নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করে সম্মানটি দিয়েছেন, তা আমার জন্য বিরল। জীবনের জন্য বড় পাওয়া। তাকেসহ যে সকল মানুষরা শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
‘শুধু এতটুকুই বলবো, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকা মানুষগুলো যাতে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য সকলেরই চিন্তাশীল ভূমিকা পালন করা দরকার। বরিশাল অঞ্চলের জামাতের দুর্গ গড়ে তুলতে হলে শক্তিমত্তা অর্জনের বিকল্প নেই। মহান রব সবাইকে সঠিক বুঝ দেওয়ার ক্ষমতা দান করুন।’
What's Your Reaction?