নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই অস্ত্রধারী ক্যাডার গ্রেপ্তার

ঘুমে ঢুলে পড়া আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম। চারদিকে নীরবতা। হঠাৎ করেই পুলিশের সাইরেন আর গাড়ির ঝলমলে আলোয় কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হয় পরিকল্পিত অভিযান। অভিযানের শেষ প্রান্তে কুখ্যাত শুটার সাদ্দাম চক্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ সশস্ত্র সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের এই দুই ক্যাডার দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া ও সাভারজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রাজারচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী আনোয়ার হোসেন জনি ওরফে জন্তু জনি (৩২) এবং রাজধানীর চকবাজার থানার লালবাগ এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপু (২৮)। ডিবি সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে

নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই অস্ত্রধারী ক্যাডার গ্রেপ্তার
ঘুমে ঢুলে পড়া আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম। চারদিকে নীরবতা। হঠাৎ করেই পুলিশের সাইরেন আর গাড়ির ঝলমলে আলোয় কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হয় পরিকল্পিত অভিযান। অভিযানের শেষ প্রান্তে কুখ্যাত শুটার সাদ্দাম চক্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ সশস্ত্র সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের এই দুই ক্যাডার দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া ও সাভারজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রাজারচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী আনোয়ার হোসেন জনি ওরফে জন্তু জনি (৩২) এবং রাজধানীর চকবাজার থানার লালবাগ এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপু (২৮)। ডিবি সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আত্মগোপনে থাকা দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। তারা দুজনই আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য এবং পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন তালুকদার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বলয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশের অভিযানের খবরে সন্ত্রাসীচক্রের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন জনির বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা এবং মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপুর বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত দশটি মামলা। বুধবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় (মামলা নং-৫০) তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মামলাতেও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ডিবি পুলিশের দাবি, শুটার সাদ্দাম চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রড, লোহার হাতুড়ি, ধারালো দা, জিআই পাইপ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালাত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালিয়ে হত্যা ও আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বর হামলার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল। অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের অভিযান চলমান। পলাতক শুটার সাদ্দামসহ তার পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow