নেপালকে নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চতুর্থবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত কয়টি দেশ অংশ নেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী নেপাল ফিফার সাসপেনশনে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাসপেনশন না উঠলে নেপালকে ছাড়াই হবে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ১ আগস্ট ভুটানে হবে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান। তার আগে ২৫ জুলাই ঢাকায় লোগো উম্মোচন। ২০২৩ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে হওয়া আসরে অতিথি দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল কুয়েত ও লেবানন। সেমিফাইনালে উঠেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দল দুটি। কুয়েত ফাইনালে হেরেছিল ভারতের কাছে। সেবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলংকা অংশ না নেওয়ায় দুই অতিথি দলসহ ৮টি দেশ নিয়ে হয়েছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার অতিথি কোনো দল থাকছে না সে সিদ্ধান্তই আগেই ছিল সাফের। নেপালের সাসপেনশন সময়মতো না উঠলে মাত্র ৬ দল নিয়ে ঢাকায় বসতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসরটি। ১ আগস্ট ড্র হবে। তাহলে নেপালের জন্য অপেক্ষা কতদিন? সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) সূত্রে জানা গেছে, নেপালকে রেখেই অনুষ্ঠিত হবে ড্র অনুষ্ঠান। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

নেপালকে নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চতুর্থবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত কয়টি দেশ অংশ নেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী নেপাল ফিফার সাসপেনশনে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাসপেনশন না উঠলে নেপালকে ছাড়াই হবে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ১ আগস্ট ভুটানে হবে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান। তার আগে ২৫ জুলাই ঢাকায় লোগো উম্মোচন।

২০২৩ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে হওয়া আসরে অতিথি দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল কুয়েত ও লেবানন। সেমিফাইনালে উঠেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দল দুটি। কুয়েত ফাইনালে হেরেছিল ভারতের কাছে। সেবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলংকা অংশ না নেওয়ায় দুই অতিথি দলসহ ৮টি দেশ নিয়ে হয়েছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার অতিথি কোনো দল থাকছে না সে সিদ্ধান্তই আগেই ছিল সাফের। নেপালের সাসপেনশন সময়মতো না উঠলে মাত্র ৬ দল নিয়ে ঢাকায় বসতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসরটি।

১ আগস্ট ড্র হবে। তাহলে নেপালের জন্য অপেক্ষা কতদিন? সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) সূত্রে জানা গেছে, নেপালকে রেখেই অনুষ্ঠিত হবে ড্র অনুষ্ঠান। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপাল সময় পাবে। এই সময়ের মধ্যে ফিফা তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে হিমালয়ের দেশটি অংশ নিতে পারবে। না হলে গ্রুপ থেকে তাদের বাদ দিয়ে ফিকশ্চার চূড়ান্ত করা হবে।

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামসহ দুটি ভেন্যু রাখা হয়েছিল টুর্নামেন্টের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত শুধু ঢাকা স্টেডিয়ামেই বসবে সাফের আসর। ঢাকা স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাস তুলে নতুন করে লাগানো হয়েছে। এরই মধ্যে সবুজ হয়ে গেছে স্টেডিয়ামের মাঠ। হাতে এখনো সময় তিন মাসের বেশি।

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘ভেন্যুর প্রস্তুতি যেভাবে চলছে তাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। ঢাকা স্টেডিয়ামেই হবে খেলা। সাফ থেকে ভেন্যু প্রস্তুতির নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে।’

নেপালের বিষয়ে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘নেপালতো আমাদের পরিকল্পনার মধ্যেই আছে। তাদের জন্য একটা নির্ধারিত সময় থাকবে। সাসপেনশন প্রত্যাহার হলে খেলবে। তা নাহলে তো সাফের কিছু করার থাকবে না।’

১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রতিযোগিতা এর আগে তিনবার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০০৩ সালে প্রথমবার আয়োজন করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেবারের আসরের ফাইনালে বাংলাদেশ হারিয়েছিল মালদ্বীপকে।

এরপর বাংলাদেশ ২০০৯ ও ২০১৮ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। তবে কোনোবারই বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারেনি। গত আসরে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে হেরেছিল কুয়েতের কাছে। তবে বাংলাদেশ দুর্দান্ত লড়াই করেছিল কুয়েতের বিপক্ষে।

২০০৩ সালে প্রথম ও শেষবার শিরোপা জেতা বাংলাদেশের সামনে আয়োজক হিসেবে ট্রফি উদ্ধারের সুযোগ থাকবে। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সাফের শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

জুনে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ডুলি অভিষেক ম্যাচ জিতেছে সান মারিনোর বিপক্ষে। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি জেতায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ একটি চারজাতি টুর্নামেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে। এই টুর্নামেন্ট হলে সাফের আগে ভালো একটা প্রস্তুতি হবে তপু-রাকিবদের।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত নয়। মাত্র তিনবার ফাইনালে উঠে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্য দুইবারই বাংলাদেশ ফাইনালে হেরেছে ভারতের কাছে। ২০০৩ সালে ট্রফি জিতে দুই বছর পর পাকিস্তানের করাচিতেও ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২-০ গোলে ভারতের কাছে হেরে করাচি থেকে ফিরেছিলেন জয়-এমিলিরা।

ভারত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কখনো কখনো পূর্ণ শক্তির দল পাঠায় না। এবার কেমন দল পাঠাবো তাও নিশ্চিত নয়। তারপরও ১৪ বারের মধ্যে ৮ বারই শিরোপা জিতেছে তারা। দুইবার মালদ্বীপ এবং একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলংকা। আফগানিস্তান এখন দক্ষিণ এশিয়া থেকে বের হয়ে গেছে।

চতুর্থবারের মতো সাফ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা। শনিবার লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে বেজে উঠবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসরের বাঁশি। আয়োজক হিসেবে সফলতার পাশাপাশি মঠের পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শেষ হয়েছে। এখন দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপের ক্ষণগননা শুরু হবে শনিবার থেকে।

আরআই/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow