পটিয়ায় খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ, ঘরে মিললো ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটির বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ শিশুর নাম মো. জায়হান (৫)। সে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের ছেলে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির সামনের পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আরও পড়ুন সন্ধ্যায় মুক্তিপণ দাবি, সকালে ডোবায় মিললো দেড় বছরের শিশুর মরদেহ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ৫ পরিবারের দাবি, বিকেল ৩টার দিকে বাড়িতে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ ঘরের মধ্যে একটি চিঠি রেখে যায়। পরে বিছানার ওপর সেটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। চিঠিতে শিশুটিক
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটির বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ শিশুর নাম মো. জায়হান (৫)। সে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির সামনের পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

সন্ধ্যায় মুক্তিপণ দাবি, সকালে ডোবায় মিললো দেড় বছরের শিশুর মরদেহ

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ৫
পরিবারের দাবি, বিকেল ৩টার দিকে বাড়িতে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ ঘরের মধ্যে একটি চিঠি রেখে যায়। পরে বিছানার ওপর সেটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। চিঠিতে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে থাকার দাবি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। একই সঙ্গে পুলিশকে না জানানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করা হয়।
নিখোঁজ শিশুর বাবা শাহজাহান বলেন, আমার একমাত্র সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা আতঙ্কে আছি।
চিঠিতে লেখা হয়, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে যা বলছি তা করতে হবে। কোনো ধরনের চালাকি করলে ছেলেকে আর জীবনে খুঁজে পাবি না। পুলিশের কাছে গেলে ছেলের লাশ পাবি। আধা ঘণ্টার মধ্যে তিন লাখ টাকা এবং পরিবারের যেকোনো একজনের আনলক করা মোবাইল একটি ব্যাগে করে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিবি। এরপর সবাই বাসার ভেতরে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিবি।’
এতে আরও লেখা হয়, ‘ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি। ঢুকে গিয়ে দরজা জানলা সব বন্ধ করে দিবি। যদি কোনো চালাকি করস তাহলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। তুর ছেলেকে জীবনে খুজে পাবি না, মোবাইলটা তোর ছেলেকে তোকে দেকানোর জন্য। সেটা বললাম সেটা শুনলে ভালো, আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

সুন্দরবন থেকে ট্রলারসহ তিন জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
চিঠির শেষ অংশে ‘মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি’ এমন একটি বাক্য লেখা ছিল। বিষয়টি অপহরণের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার ইঙ্গিত বহন করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মুক্তিপণ দাবির চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তিনি বলেন, চিঠির ভাষা, লেখার ধরন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
এমআরএএইচ/এমএমকে
What's Your Reaction?