পটুয়াখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও পরবর্তী সময়ে লঘুচাপের দূরবর্তী প্রভাবে টানা ৬ দিনের বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদের গ্রামের পর গ্রাম। প্রকৃতিতে নেমে আসা এমন দুর্যোগে বৈরিতার কবলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। আর বিরামহীন বৃষ্টির ফলে সাধারণ জীবনযাত্রায়ও নেমে এসেছে ধীর গতি। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা। প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। ফলে মৎস্য বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত কলাপাড়া উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। যার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা হলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে।  সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টির মুষলধারায় বাড়তি পানিপ্রবাহে অন্তত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেছে অনেক কৃষকের স্বপ্ন। বিশেষ করে মিঠাপানির জলাশয় থেকে অসংখ্য চাষির মাছ বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙেছে। আবার কোথাও পুকুর ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে।  প্রাকৃতিক এমন দুর্যোগে উপজেলার চাকামইয়া, চম্পাপুর, নীলগঞ্জ, ধুলসার, ধানখালী ও মহিপু

পটুয়াখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও পরবর্তী সময়ে লঘুচাপের দূরবর্তী প্রভাবে টানা ৬ দিনের বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদের গ্রামের পর গ্রাম। প্রকৃতিতে নেমে আসা এমন দুর্যোগে বৈরিতার কবলে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। আর বিরামহীন বৃষ্টির ফলে সাধারণ জীবনযাত্রায়ও নেমে এসেছে ধীর গতি। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা। প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। ফলে মৎস্য বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত কলাপাড়া উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। যার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা হলে এর সংখ্যা আরও বাড়বে। 

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টির মুষলধারায় বাড়তি পানিপ্রবাহে অন্তত চার শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেছে অনেক কৃষকের স্বপ্ন। বিশেষ করে মিঠাপানির জলাশয় থেকে অসংখ্য চাষির মাছ বেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক মৎস্য ঘেরের বাঁধ ভেঙেছে। আবার কোথাও পুকুর ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে। 

প্রাকৃতিক এমন দুর্যোগে উপজেলার চাকামইয়া, চম্পাপুর, নীলগঞ্জ, ধুলসার, ধানখালী ও মহিপুরের অসংখ্য মৎস্য চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তারা বলছেন, বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকলে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি গো খাদ্য সংগ্রহেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। 

চম্পাপুর ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৎস্য চাষি হুমায়ূন কবির কালবেলাকে বলেন, তিন একর জমিতে চাষ করা মাছের ঘের তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। ঘেরে রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছি। অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

এ ছাড়া আমির হোসেন, মতি গাজী, ছলেমান, জিয়ান তালুকদার, শুভ গাজী, টল এনামুলসহ বহু চাষির মৎস্য ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। 

চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, আমার ইউনিয়নে অনেক এলাকায় এখন অচলাবস্থা। নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িসহ ক্ষেত-খামার সব প্লাবিত হয়েছে। অন্তত দুই শতাধিক ঘের পুকুর তলিয়ে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকদিন গোয়ালের গরু, ছাগল নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মানুষ।

কলাপাড়ার খেপুপাড়া রাডার স্টেশন ও পিবিও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক জয়দীপ কবিরাজ কালবেলাকে বলেন, গত ৪ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা কালবেলাকে বলেন, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মাছের ঘের পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা হলে এর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা। 

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আমরা তালিকা তৈরি করছি। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের এ তালিকা মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow