পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, কার ছত্রচ্ছায়ায় চলল এই কাণ্ড

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ ও পাশ থেকে মাটি কাটার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।  স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে সেতুর পিলারসংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের নজরে আসেনি। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশ থেকে ব্যাপক পরিমাণ মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়া এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে মাটি কাটার ফলে পিলারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানি নিয়ে তৈরি হয়েছে পুকুরসদৃশ জলাধার, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা পিয়াস জানান, ২০২৪ সালেও একই এলাকায় মাটি কাটার চেষ্টা হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই কার্যক্

পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, কার ছত্রচ্ছায়ায় চলল এই কাণ্ড

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ ও পাশ থেকে মাটি কাটার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে সেতুর পিলারসংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের নজরে আসেনি। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশ থেকে ব্যাপক পরিমাণ মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়া এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে মাটি কাটার ফলে পিলারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানি নিয়ে তৈরি হয়েছে পুকুরসদৃশ জলাধার, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পিয়াস জানান, ২০২৪ সালেও একই এলাকায় মাটি কাটার চেষ্টা হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি রাতের আঁধারে আবারও মাটি কেটে পুরো এলাকাকে বড় ধরনের জলাশয়ে পরিণত করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মণি ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একজন বিএনপি নেতা সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি অপসারণ করেছেন। তার দাবি, অন্তত চার শতাধিক ট্রাক মাটি এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বক্তব্য। 

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপসচিব শিমুল কুমার সাহা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে কখনোই পদ্মা রেলসেতুর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার কোনো অনুমতি দেয়নি। রেলওয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অনুমোদন প্রদান করা হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর বলেন, অভিযোগ জানার পরপরই মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। কারা, কী ধরনের অনুমতি নিয়ে কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আপাতত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখান থেকে আর মাটি কাটা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাটি কাটার স্থানে খুব শিগগিরই বৃক্ষরোপণ করা হবে। 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দেশের একটি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুর পিলারের নিচ ও পাশ থেকে কীভাবে দিনের পর দিন মাটি কাটা হলো? যদি সত্যিই কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার ছত্রচ্ছায়ায় এই কাজ চলেছে? আবার যদি অনুমোদন থেকে থাকে, তবে সেই অনুমোদনের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অবকাঠামোর পিলারসংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি অপসারণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ভূমির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এ ঘটনায় সেতুর কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রকাশ্যে এভাবে গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুর পিলারঘেঁষা এলাকা থেকে শত শত ট্রাক মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে অনেকেই ‘তুঘলকি কাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। প্রশাসন কাজ বন্ধ করলেও প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কীভাবে এতদিন ধরে এই অনিয়ম চলেছে তার জবাব খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow