পরপারে পাড়ি জমালেন রোমানিয়ান কিংবদন্তি লুচেস্কু

পরপারে পাড়ি জমালেন রোমানিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার মিরচা লুচেস্কু। বুখারেস্টের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গত সপ্তাহেই রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান লুচেস্কু। লুচেস্কুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিরচা লুচেস্কু রোমানিয়ার সফলতম কোচ ও খেলোয়াড়দের একজন। তার অধীনই ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল রোমানিয়া। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তিনি রোমানিয়ানদের হৃদয়ে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা পেয়েছেন।’ জানা যায়, ১০ দিন আগে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন লুচেস্কু। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, গত শুক্রবার তার ‘হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হওয়া’য় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিনই তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া লুচেস্কু রোমানিয়ান ফুটবলের মধ্যমণি। খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে কোচিংয়েও আকাশচুম্বী সাফল্য

পরপারে পাড়ি জমালেন রোমানিয়ান কিংবদন্তি লুচেস্কু

পরপারে পাড়ি জমালেন রোমানিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার মিরচা লুচেস্কু। বুখারেস্টের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গত সপ্তাহেই রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান লুচেস্কু।

লুচেস্কুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিরচা লুচেস্কু রোমানিয়ার সফলতম কোচ ও খেলোয়াড়দের একজন। তার অধীনই ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল রোমানিয়া। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তিনি রোমানিয়ানদের হৃদয়ে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা পেয়েছেন।’

জানা যায়, ১০ দিন আগে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন লুচেস্কু। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, গত শুক্রবার তার ‘হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হওয়া’য় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিনই তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন।

বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া লুচেস্কু রোমানিয়ান ফুটবলের মধ্যমণি। খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে কোচিংয়েও আকাশচুম্বী সাফল্য পান। ২০২৪ সালের আগস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন লুচেস্কু। গত ২৬ মার্চ বিশ্বকাপ প্লে-অফ সেমিফাইনালে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারই ছিল ডাগআউটে তার শেষ ম্যাচ। কোচ হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে ১৯৮৪ ইউরোর মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রোমানিয়া। কিন্তু দুই বছর পর রোমানিয়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।

ক্লাব ফুটবলে লুচেস্কুর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইতালি, তুরস্ক ও ইউক্রেনের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবে ৩০টিরও বেশি শিরোপা জিতেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তারা লিখেছে, ‘আমাদের উয়েফা সুপার কাপ ও ১৫তম লিগ শিরোপা জয়ের নায়ক মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে ঘুমান লুচে, আমরা আপনাকে কখনো ভুলব না।’

খেলোয়াড়ি জীবনে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা লুচেস্কু ১৯৭০ বিশ্বকাপে রোমানিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ১০টি গোল করেন এই কিংবদন্তি। ১৯৪৫ সালের ২৯ জুলাইয়ে জন্ম নেওয়া লুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোসর দান। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে পুরো রোমানিয়া শোকস্তব্ধ। তিনি রোমানিয়ান ফুটবলের উত্থানে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের প্রকৃত দূত হিসেবে কাজ করেছেন।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow