পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে শতাধিক সংগঠনের একযোগে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শতাধিক সংগঠন। একে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশভিত্তিক নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে বলা হচ্ছে। শুক্রবার (৫ জুন) ‘গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)। কর্মসূচির ট্র্যাকিং ও মনিটরিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে সাসটেইনএবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সবুজের বার্তা পৌঁছে দিতে তরুণদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ লক্ষাধিক গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি লক

পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে শতাধিক সংগঠনের একযোগে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শতাধিক সংগঠন। একে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশভিত্তিক নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে বলা হচ্ছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ‘গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)। কর্মসূচির ট্র্যাকিং ও মনিটরিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে সাসটেইনএবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সবুজের বার্তা পৌঁছে দিতে তরুণদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ লক্ষাধিক গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আয়োজকরা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িতে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে এমন স্থানে স্থায়ীভাবে গাছ রোপণ করা হবে। পরিবেশবান্ধব উপহার হিসেবে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে অন্তত ২টি করে ফলজ ও বনজ গাছ উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।

এছাড়াও জেলা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় অতিথি ও পরিবেশকর্মীরা পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন
টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ 
আজ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশ ‘নীরব এলাকা’: ডিএনসিসি প্রশাসক 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, আমাদের নদী, জলাশয় এবং সামগ্রিক ইকোসিস্টেম আজ চরম সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। ‘৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন কর্মসূচি’ দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। পরিবেশের সুরক্ষা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এই ঐতিহাসিক নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে থাকতে পেরে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই সমন্বিত শক্তিই পারবে আমাদের প্রকৃতিকে বাঁচাতে।

সিথ্রিইআর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে পরিচিত। এই বাস্তবতায় কেবল প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকর এবং বাস্তবমুখী জলবায়ু পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬৪ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পলিসি ও ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলবে।

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, বরং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন। আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুরক্ষা দেয়। ৬৪ জেলার এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে চাই।

আরএএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow