পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় শেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার কারণে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া এলাকায় তিন দিন ধরে মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কুরমান আলী (৪৫) নামের ওই কৃষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় বাবার মরদেহ ধরতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে রবিন। গত ১৯ জুন (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কুরমান আলী শেরপুর উপজেলার কেল্লা গ্রামের মৃত ওজির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার সকাল ৬টার সময় কুরমান আলী তাঁর দুলাভাইয়ের মালিকানাধীন টুনিপাড়া গ্রামের একটি কৃষি প্রজেক্টে কাজ করতে যান। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খোঁজাখুঁজির সময় নিহত কুরমান আলীর ছেলে রবিন ধানক্ষেতের মধ্যে তাঁর বাবাকে পড়ে থাকতে দেখেন। সে বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ক

পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় শেরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার কারণে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া এলাকায় তিন দিন ধরে মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কুরমান আলী (৪৫) নামের ওই কৃষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় বাবার মরদেহ ধরতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে রবিন। গত ১৯ জুন (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কুরমান আলী শেরপুর উপজেলার কেল্লা গ্রামের মৃত ওজির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার সকাল ৬টার সময় কুরমান আলী তাঁর দুলাভাইয়ের মালিকানাধীন টুনিপাড়া গ্রামের একটি কৃষি প্রজেক্টে কাজ করতে যান। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খোঁজাখুঁজির সময় নিহত কুরমান আলীর ছেলে রবিন ধানক্ষেতের মধ্যে তাঁর বাবাকে পড়ে থাকতে দেখেন। সে বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান এবং ঘটনাস্থল থেকে নিহত কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয় কৃষক সালাম জানান, সকালে ধানের জমির পানি বের করে দেওয়ার জন্য কুরমান আলী ওই জমিতে যান। সেখানে আগে থেকেই বৈদ্যুতিক পোলের তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল। অসাবধানতাবশত সেই তার হাত দিয়ে সরাতে গিয়েই তিনি তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিদ্যুতের তীব্রতায় তাঁর হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

দীর্ঘ তিন দিন ধরে তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (শেরপুর জোনাল অফিস)-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল আজিজ জানান, সাধারণত বৈদ্যুতিক খুঁটির তার মাটিতে পড়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। তবে তিন দিন ধরে তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন মারাত্মক গাফিলতি ও অবহেলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনু্দ্দীন বলেন, ঘটনার পর শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow