পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঘিরে নতুন আলোচনা
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা ছড়ায়। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়লাভের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে এই প্রথম দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি বিজয়ী হয়। ফল ঘোষণার পরও সেখানকার বিজেপি নেতাকর্মীরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য সীমান্তের এপার-ওপারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, পুশ-ইনসহ নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের সময়ের ভোটের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিকে
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা ছড়ায়। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়লাভের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে এই প্রথম দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি বিজয়ী হয়। ফল ঘোষণার পরও সেখানকার বিজেপি নেতাকর্মীরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য সীমান্তের এপার-ওপারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এ নিয়ে বিবিসি বাংলায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, পুশ-ইনসহ নানা বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের সময়ের ভোটের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিকে পরিবর্তন করে না বা প্রভাব ফেলে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
কিন্তু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও সেটি পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, এটা ঠিক, যারা রাষ্ট্র গঠন করে সাম্প্রদায়িক ইনসিডেন্টের ক্ষেত্রে তাদের একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট বা ভূমিকা থাকতে পারে।
তিস্তা প্রসঙ্গে ইয়াসমিন মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, মমতা ব্যানার্জীর ওপর তখন সুযোগ বুঝে দোষা চাপানো হয়। কারণ তিস্তার সাথে শুধু রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থও কিন্তু এটার সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কোন চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু এটা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সরকার ছিল না, তাই মমতাকে এটার জন্য দায়ী করা বিজেপির পক্ষে সহজ ছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তির ব্যর্থতার জন্য এককভাবে দায়ী নন বরং পুরো স্ট্রাকচার দায়ী বলে মনে করেন ইয়াসমিন।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। আর এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে।
এরইমধ্যে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বুধবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজেপির জয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বাড়তে পারে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সীমান্তে তারা একটু সতর্ক থাকে। কারণ সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখি না, যদি হয় যাতে তারা এড্রেস করতে পারে। আমার ধারণা সেরকম কিছু ঘটবে না।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিশ্চিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার কীভাবে দেখছে, সেটি নিয়েও আলোচনা ওঠে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয় না, (পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনে) কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন আসবে।
What's Your Reaction?