পশ্চিমা জোটে টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চীন পৌঁছেছেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন অস্থির, তখন বেইজিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। চীন সফরের আগে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্টারমার বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে উপেক্ষা করা ব্রিটেনের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চীনের বিষয়ে মাথা গুঁজে থাকা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে। আমাদের তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। স্টারমার আরও জানান, এই সফর ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে বাস্তব অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদী। ৫০ জনের বেশি ব্যবসায়ী নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর শুক্রবার তিনি সাংহাইয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। গত কয়েক বছরে হংকংয়ে রাজনৈতিক দমননীতি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে চীনের সমর্থন এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের কারণে ব্র

পশ্চিমা জোটে টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চীন পৌঁছেছেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন অস্থির, তখন বেইজিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

চীন সফরের আগে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্টারমার বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে উপেক্ষা করা ব্রিটেনের পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, চীনের বিষয়ে মাথা গুঁজে থাকা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে। আমাদের তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

স্টারমার আরও জানান, এই সফর ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে বাস্তব অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

৫০ জনের বেশি ব্যবসায়ী নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর শুক্রবার তিনি সাংহাইয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

গত কয়েক বছরে হংকংয়ে রাজনৈতিক দমননীতি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে চীনের সমর্থন এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের কারণে ব্রিটেন-চীন সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। এই সফর সেই সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।

চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সফর বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে নিজেদেরকে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ।

ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির কারণে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

স্টারমারের সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটেনের কিছু বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে— যেমন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর নিয়ে সমালোচনা এবং আফগান যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য।

সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডাকে হুমকি দেন, তারা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

তবে স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী।

চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হংকংয়ের গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলবেন কি না, সে বিষয়ে স্টারমার স্পষ্ট কিছু বলেননি।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ দিতে চীনকে অনুরোধ করবেন কি না, তাও জানাননি তিনি।

ভিসামুক্ত ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতি আশা করছেন।

তিনি বলেন, আমি একজন বাস্তববাদী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, সাধারণ বুদ্ধি প্রয়োগ করি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow