পাওনা টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের মারামারি

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকালে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।  জানা গেছে, সোমবার উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু ইউনিয়ন কার্যালয়ে অফিস করছিলেন। এ সময় ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহদেব দাস, চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর কাছে পাওনা টাকা চান। এসময় চেয়ারম্যান বলেন, আমার কাছে যদি কোনো টাকা পাওনা থাকে তাহলে পরে বসে আলোচনা করব। এ সময় মেম্বার সহদেব দাস আঙুল তুলে কথা বলতে থাকেন। এ সময় চেয়ারম্যান সহদেব মেম্বারকে আঙুল নামানোর কথা বলেন। তখন উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যানের গলায় ধরে কিলঘুষি মারতে থাকেন মেম্বার সহদেব দাস। পরে উপস্থিত অন্য মেম্বাররা তাদের সরিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য মধু দাস ও আলমাছ মিয়া বলেন, সহদেব মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে টাকার হিসাব জানতে চান। চেয়ারম্যান মেম্বারকে এই বিষয়ে পরে কথা বলার জন্য বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেম্বার চেয়ারম্যানকে কিলঘুষি মারেন। পরে আমার দুই মেম্বার ও অন্য মানুষেরা মিলে চেয়ারম

পাওনা টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের মারামারি

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকালে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, সোমবার উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু ইউনিয়ন কার্যালয়ে অফিস করছিলেন। এ সময় ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহদেব দাস, চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর কাছে পাওনা টাকা চান। এসময় চেয়ারম্যান বলেন, আমার কাছে যদি কোনো টাকা পাওনা থাকে তাহলে পরে বসে আলোচনা করব। এ সময় মেম্বার সহদেব দাস আঙুল তুলে কথা বলতে থাকেন। এ সময় চেয়ারম্যান সহদেব মেম্বারকে আঙুল নামানোর কথা বলেন। তখন উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যানের গলায় ধরে কিলঘুষি মারতে থাকেন মেম্বার সহদেব দাস। পরে উপস্থিত অন্য মেম্বাররা তাদের সরিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য মধু দাস ও আলমাছ মিয়া বলেন, সহদেব মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে টাকার হিসাব জানতে চান। চেয়ারম্যান মেম্বারকে এই বিষয়ে পরে কথা বলার জন্য বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেম্বার চেয়ারম্যানকে কিলঘুষি মারেন। পরে আমার দুই মেম্বার ও অন্য মানুষেরা মিলে চেয়ারম্যানকে অফিসে আটকিয়ে মেম্বার সহদেবকে বাইরে বের করে দেই।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু বলেন, সোমবার আলমাছ ও সহদেব মেম্বার একসঙ্গে অফিসে আসেন। অফিসে ঢুকেই সহদেব মেম্বার বলেন, তার পাওনা টাকা দিতে হবে। আমি বলেছি টাকা পাওনা থাকলে পরে বসে সমাধান করব। কিন্তু সহদেব মেম্বার উত্তেজিত হয়ে আঙুল আমার দিকে ‍তুলে এই মুহূর্তে টাকা দিতে বলেন। আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে সে আরও উত্তেজিত হয়ে আমাকে একাধিক ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় মধু দাস মেম্বার ও তপনসহ আরও যারা ছিলেন তারা আমাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউপি সদস্য সহদেব দাস বলেন, আমি চেয়ারম্যানের কাছে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাই। ২ বছর পার হয়ে গেলেও আমাকে দেই, দিচ্ছি বলে হয়রানি করছেন। আজও আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ বিষয়ে পরে কথা বলবে বলে জানান। তার কাছে দুধ নিয়ে গেলে এক ফোঁটা দুধও ফেরত আসে না। একথা বলতেই চেয়ারম্যান রেগে আমার ঘাড় ধরে অফিস থেকে বের করে দেন। পরে তার অনুসারীদের ফোন দিয়ে এনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, আমার জীবন রক্ষার জন্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ঘরে আশ্রয় নিলে এখানেও আমাকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে মহড়া দেন চেয়ারম্যানের লোকজন। তাই নিরাপত্তার কারণে আমি শাল্লা মেডিকেলে ভর্তি না হয়ে সিলেটে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। 

শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ রোকিবুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow