পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, কারণ কী?

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে গণমিছিলের ডাক দেয়। এর জবাবে কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন, যার ফলে অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানান, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের বহরকে রাওয়ালাকোট অতিক্রম করে মুজাফফরাবাদের দিকে যেতে দেওয়া হবে না

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, কারণ কী?

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে গণমিছিলের ডাক দেয়।

এর জবাবে কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন, যার ফলে অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানান, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের বহরকে রাওয়ালাকোট অতিক্রম করে মুজাফফরাবাদের দিকে যেতে দেওয়া হবে না।

বিবিসির উর্দুর প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করে মানুষকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে আরও সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলেও কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাজধানী মুজাফফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোটের আকাশে হেলিকপ্টার টহলও চালানো হচ্ছে।

কীভাবে শুরু হলো সহিংসতা?

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৯ জুন) কোটলি শহরেও সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিক্ষোভ দমনে সহিংস ও ব্যাপক ধরপাকড়, ইন্টারনেট বন্ধ, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ অঞ্চলটির মানবাধিকার পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতিরই ধারাবাহিকতা।

তবে সহিংসতার মধ্যেও মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জেএএসি সাধারণ ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে।

বর্তমানে শহরজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।

তবে দোকানপাট নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে, নাকি জেএএসির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মুজাফফরাবাদের এক ব্যবসায়ী বলেন, কোনো সংগঠনের নির্দেশে নয়, বরং নিজের সিদ্ধান্তেই তিনি দোকান বন্ধ রেখেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

কেন বিক্ষোভ করছেন মানুষ?

জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইনসভা নির্বাচনে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই মূলত এ বিক্ষোভের সূত্রপাত।

সমালোচকদের মতে, এসব আসনে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বসবাসকারী মানুষ প্রার্থী হতে পারবেন না, ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব হচ্ছে।

জেএএসি সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছে, আইনসভার সব আসনই অঞ্চলটিতে বসবাসকারী জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।

তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সংগঠনটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ আচরণ করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট এক প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্সের জবাবে দেওয়া বিস্তারিত মতামতে জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা জনচাপের মাধ্যমে এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যার নিজস্ব আঞ্চলিক সরকার রয়েছে।

সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান উৎস। হিমালয়ঘেরা এই অঞ্চলটির পুরো অংশের ওপরই দাবি করে দুই দেশ। এ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এবং একটি সীমিত সংঘাতে জড়িয়েছে।

বর্তমানে অঞ্চলটির একটি অংশ ভারতের এবং অন্য অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow