পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ইফাস্ট’ শুরু
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিস (ইফাস্ট)-২০২৬ শুরু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) হাইব্রিড পদ্ধতিতে দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ আর মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পের্লিস (ইউনিম্যাপ) যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সার্বিক তত্বাবধানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সে জেনারেল চেয়ার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। গেস্ট অব অনার হিসেবে আছেন জাপানোর ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নারুহিকো আইজাওয়া এবং মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিস (ইফাস্ট)-২০২৬ শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) হাইব্রিড পদ্ধতিতে দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ আর মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পের্লিস (ইউনিম্যাপ) যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সার্বিক তত্বাবধানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সে জেনারেল চেয়ার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। গেস্ট অব অনার হিসেবে আছেন জাপানোর ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নারুহিকো আইজাওয়া এবং মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ড. একেএম আজহারুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জেফরি স্যাকস সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ড. চেন জিট আর্ন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক এবং অর্গানাইজিং কমিটির সচিব ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, 'আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক মাস আগে যোগদান করেছি, এরই মধ্যে এমন কিছু দেখার সুযোগ পেয়েছি; যা আমাকে দারুণভাবে আশাবাদী করে তুলেছে: খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরপর দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান গবেষণা সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানব সভ্যতার প্রতিটি দিককে বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, উন্নত উপকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু বিজ্ঞান এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স এখন আর সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা নয়; এগুলো আমাদের বর্তমানকে রূপ দিচ্ছে এবং আমাদের ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করছে।'
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ইনোভেশন, এনার্জি নিরাপত্তা, আইডিয়া এক্সচেঞ্জ, এআই প্রযুক্তি, ন্যানো টেকনোলজি প্রভৃতি বিষয়ের গবেষণাগুলো সমাজের জন্য অবদান রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।'
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান বলেন, 'এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে গবেষকরা একে অপরের সাথে নলেজ শেয়ারিং এবং নলেজ এক্সচেঞ্জ আরও সহজে করতে পারবেন। আইডিয়াগুলো আমাদের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।'
এমিরিটাস প্রফেসর ড. একেএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “এই সম্মেলন পাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীত করতে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং গবেষকদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
উপাচার্য আরও বলেন, 'এই সম্মেলনটি কেবল একটি অ্যাকাডেমিক অনুষ্ঠান নয়। এটি এমন একটি মঞ্চ যেখানে ধারণাগুলো উদ্ভাবনে পরিণত হতে পারে, উদ্ভাবন সমাধানে রূপান্তরিত হতে পারে এবং সমাধান একটি উন্নততর বিশ্ব গঠনে অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবন-চালিত অর্থনীতি হওয়ার দিকে অবিচলিতভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কেবল অবকাঠামো ও শিল্পের উপরই নয়, বরং এর বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলের শক্তির উপরও নির্ভর করবে।'
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় সাম্প্রতিক গবেষণা, উদ্ভাবন প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা। সম্মেলনটি বাংলাদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করবে।
What's Your Reaction?