পারিবারিক কলহ-অভিমান কেড়ে নিল দুই প্রাণ
জীবন বদলানোর স্বপ্ন ও বুক ভরা আশা আর ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের খোঁজে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর আরব আমিরাতে। কোরবানির ঈদে পরিবারের আপনজনদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিতেই এসেছিলেন নাড়ির টানে প্রিয় জন্মভূমিতে। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দ চিরতরে বিষাদে রূপ নেবে? এক বুক অভিমান, মানসিক অস্থিরতা আর পারিবারিক কলহের জেরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে নিভে গেল দুটি যুবকের জীবন প্রদীপ। শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটে যাওয়া এই দুই প্রবাসীর এমন বিয়োগান্তক পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে মরিয়মনগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকায়। নিজ বাড়ি থেকে মো. বাবর (২৮) নামের এক প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মনোয়ারের ছেলে। স্বজনদের আকুল আর্তনাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশে জানা যায়, বাবর কিছুদিন ধরে এক অজানা পারিবারিক কলহের কারণে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ঘরের ভেতর তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই
জীবন বদলানোর স্বপ্ন ও বুক ভরা আশা আর ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের খোঁজে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর আরব আমিরাতে। কোরবানির ঈদে পরিবারের আপনজনদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিতেই এসেছিলেন নাড়ির টানে প্রিয় জন্মভূমিতে। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দ চিরতরে বিষাদে রূপ নেবে?
এক বুক অভিমান, মানসিক অস্থিরতা আর পারিবারিক কলহের জেরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে নিভে গেল দুটি যুবকের জীবন প্রদীপ।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটে যাওয়া এই দুই প্রবাসীর এমন বিয়োগান্তক পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে মরিয়মনগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকায়। নিজ বাড়ি থেকে মো. বাবর (২৮) নামের এক প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মনোয়ারের ছেলে। স্বজনদের আকুল আর্তনাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশে জানা যায়, বাবর কিছুদিন ধরে এক অজানা পারিবারিক কলহের কারণে প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ঘরের ভেতর তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
এই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন সন্ধ্যার দিকে মরিয়মনগরের ফুলগাজীপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় মর্মস্পর্শী ঘটনাটি। সেখানে কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মোহাম্মদ তানভির হোসেন (৩০) নামের আরেক প্রবাসীর নিথর দেহ।
চিরতরে চলে যাওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তানভির তার ফেসবুক আইডিতে এক বুক কষ্ট আর অভিযোগের কথা লিখে যান। সেখানে তিনি শেষবারের মতো সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচাশ্বশুর, এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতে। সবাই ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। ভালো থেক প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।’
এই আবেগঘন স্ট্যাটাস দেখে পরিচিতরা যখন চিন্তিত হয়ে ওঠেন, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। স্থানীয়রা নদীর চরে গাছে তার দেহ ঝুলতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্মস্থলে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হাসিখুশি ও ভদ্র স্বভাবের এই যুবকের এমন অকালে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার প্রতিবেশীরা।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই পৃথক ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাদের এই মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।
What's Your Reaction?