পিপলস ইনস্যুরেন্সের ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সকল কমিটির চেয়ারপার্সন, পরিচালক, সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকের প্রতিনিধি, স্ক্রুটিনাইজার, ডিএসই, সিএসই ও বিএসইসি’র অবজারভার এবং ২৫৬ এর অধিক শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়ালি সভায় সংযুক্ত ছিলেন। বুধবার (২৪ জুন) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানির চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালন করেন কোম্পানি সচিব শেখ মো. সরফরাজ হোসেন। শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের জন্য ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এছাড়াও পরিচালক নির্বাচন ও নিয়োগসহ ২০২৬ সালের জন্য সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক এবং কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করেন। সভার শুরুতেই কোম্পানি সচিব সংযুক্ত পরিচালকসহ সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সভায় ভোট প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনাবলি তুলে ধরেন। দোয়া পরিচালনার পর কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য এবং কোম্পানির ওভারভিউ তুলে ধরেন। কোম্পানির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী

পিপলস ইনস্যুরেন্সের ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সকল কমিটির চেয়ারপার্সন, পরিচালক, সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকের প্রতিনিধি, স্ক্রুটিনাইজার, ডিএসই, সিএসই ও বিএসইসি’র অবজারভার এবং ২৫৬ এর অধিক শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়ালি সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

বুধবার (২৪ জুন) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানির চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালন করেন কোম্পানি সচিব শেখ মো. সরফরাজ হোসেন।

শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের জন্য ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এছাড়াও পরিচালক নির্বাচন ও নিয়োগসহ ২০২৬ সালের জন্য সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক এবং কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করেন।

সভার শুরুতেই কোম্পানি সচিব সংযুক্ত পরিচালকসহ সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সভায় ভোট প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনাবলি তুলে ধরেন। দোয়া পরিচালনার পর কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য এবং কোম্পানির ওভারভিউ তুলে ধরেন।

কোম্পানির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের আগে অডিট কমিটির চেয়ারপার্সন শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ বছরে কোনো অতিরিক্ত সাধারণ কার্যকলাপ ঘটেনি এবং আর্থিক বিবরণীতে এ ধরনের কোনো প্রতিফলনও পরিলক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশের আ্যকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড-২৪ এর রিলাটেড পার্টি ডিসক্লোজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সংজ্ঞা অনুসারে পিপলস ইনস্যুরেন্স তৃতীয় পক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একই শর্ত অনুযায়ী এবং বাণিজ্যিক হারগুলিতে আর্ম লেনথ্ ভিত্তিতে পরিচালিত সব পক্ষের লেনদেন পরিচালনা করে আসছে। ত্রৈমাসিক ও সমাপ্ত বছরের ফলাফলের মধ্যে কোন উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়নি। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুতকৃত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনাগত ফলাফল, নগদ প্রবাহ এবং ইক্যুইটির পরিবর্তনের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিগত বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না থাকায় আয়-ব্যয় ও সম্পদের পরিমাণ প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। চলতি বছরে সাধারণ রিজার্ভ তহবিল ৮৫.০০ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪০.৫০ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। লাভ-ক্ষতি বরাদ্দ হিসাব ৩.১৭ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৫৫.৫৬ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। অগ্নি বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩৬.৫৩ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১৬.৪১ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। নৌ বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩০.৭২ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৮১.৬৮ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। মোটর বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩.১৮ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১১.৮৬ মিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। বিবিধ বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ১.৪৬ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে এখন ৩.০৩ মিলিয়ন টাকা হয়েছে।

গত বছর, ডিপোজিট প্রিমিয়াম ২২.৮৯ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪১.৩৯ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। এরপর বকেয়া বা অবহিত দাবির ক্ষেত্রে আনুমানিক দায় ৫১.২৭ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ২৭৫.৩২ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। বীমা ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য ব্যক্তি বা সংস্থা - সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বকেয়া পরিমাণ ১৩.৫৮ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১০.৫১ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। বিবিধ দেনাদারদের পরিমাণ ৪.৩৩ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫১.১৭ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের প্রদেয় অদাবিকৃত লভ্যাংশ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৫৬ মিলিয়ন টাকা যা প্রতিবছর নিয়ম অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে জমা দেওয়া হচ্ছে। গ্র্যাচুইটি রিজার্ভ ৩ মিলিয়ন টাকা কমে এখন ৩৮.৬৬ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। আয়কর সংরক্ষণের পরিমাণ ১১০.৫০ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৯.০৫ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ক্রয় মূল্য অনুযায়ী শেয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১.৯৬ মিলিয়ন টাকা হলে ও বাজার মূল্য অনুযায়ী শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানে ৪৮.২২ মিলিয়ন টাকা। ২২.৫০ মিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ১৯২.৬০ মিলিয়ন টাকা থেকে ২১৫.১০ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি স¤পদ বেড়ে ৮২৩.৭১ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি সম্পদ গত বছরের তুলনায় ৪৮.৭১ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪৯.৫১ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। নগদ এবং নগদ সমতুল্য ১,৫০৩.১৮ মিলিয়ন টাকা থেকে এ বছর ১১৩.৮৮ মিলিয়ন টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬১৭.০৮ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানির চেয়ারম্যান সমাপনী বক্তব্য দেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসি. ২০২৫ সালে মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৪৪.০৮ মিলিয়ন টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮৮.১৯ মিলিয়ন টাকা। আগের বছরের তুলনায় ৫৫.৮৯ মিলিয়ন টাকা প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে। ২০২৫ সালে পুনঃবীমা প্রিমিয়াম প্রদান ও গ্রহণের পর নীট প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭০.৯২ মিলিয়ন টাকা যার বিপরীতে গত বছর ছিল ৪৯৫.০৮ মিলিয়ন টাকা অর্থাৎ এ বছর ২৪.১৬ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়েছে। আমাদের দেশের উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ৪০ বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রিজার্ভ ও মোট সম্পদ যথাক্রমে ০.৬১ মিলিয়ন টাকা এবং ৪২.৪১ মিলিয়ন টাকা থেকে শুরু করে শেয়ারহোল্ডারগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ২০২৫ সালের সমাপ্তিতে তা যথাক্রমে ১,০৯১.৩৬ মিলিয়ন টাকা এবং ৩,১৯০.৩০ মিলিয়ন টাকা উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছে। বিগত বৎসরে কর্তৃপক্ষ বিচক্ষণতার সাথে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করায় শেয়ারহোল্ডারগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ভাইস চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, পরিচালক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, পরিচালক ও ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ আলী হোসেন, পরিচালক মো. ফরহাদ আহমেদ আকন্দ, পরিচালক সাইফুল আরেফিন খালেদ, পরিচালক কবির আহমেদ, পরিচালক ফারজানা জাহান আহমেদ, পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, পরিচালক মো. আজিজুল হক, পরিচালক ড. জ্যোৎস্না আরা বেগম, পরিচালক মোহাম্মদ মিজান ভিক্টর মহসিন, পরিচালক নুভেদ মিজান ইকবাল, স্বতন্ত্র পরিচালক ও রিস্ক ম্যানেজম্যান্ট কমিটির চেয়ারপার্সন দিলশাদ আহমেদ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও পলিসিহোল্ডার প্রোটেকশন এন্ড কম্প্লায়েন্স কমিটির চেয়ারপার্সন এম এম জি সারওয়ার, স্বতন্ত্র পরিচালক এবং অডিট কমিটি ও নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটির চেয়ারপার্সন রুবাইয়াত আরা, কনসালটেন্ট মোহাম্মদ হোসেন খালেদ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আজিজুল হোসেন, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow