পিরোজপুরে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

পিরোজপুরে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি এসএসসি পরীক্ষায়। তবে তিন বিদ্যালয়ে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গনমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮ জন, কলারদোয়ানিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আটজন এবং নেছারাবাদ উপজেলার শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আট পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি কেউ। এছাড়া পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি মাদরাসা, ভান্ডারিয়া উপজেলায় পাঁচটি মাদরাসাসহ জেলায় ১১ মাদরাসায় কোন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি। এছাড়া একজন করে উত্তীর্ণ হয়েছে সাতটি মাদরাসা, ও দুইজন করে নয়টি মাদরাসার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পিরোজপুরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অকৃতকার্য হওয়া এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘অভিভাবক হিসেবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি, নিয়মিত চেষ্টা কর

পিরোজপুরে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

পিরোজপুরে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি এসএসসি পরীক্ষায়। তবে তিন বিদ্যালয়ে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গনমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮ জন, কলারদোয়ানিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আটজন এবং নেছারাবাদ উপজেলার শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আট পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি কেউ। এছাড়া পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি মাদরাসা, ভান্ডারিয়া উপজেলায় পাঁচটি মাদরাসাসহ জেলায় ১১ মাদরাসায় কোন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি।

এছাড়া একজন করে উত্তীর্ণ হয়েছে সাতটি মাদরাসা, ও দুইজন করে নয়টি মাদরাসার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

পিরোজপুরে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

পিরোজপুরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অকৃতকার্য হওয়া এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘অভিভাবক হিসেবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি, নিয়মিত চেষ্টা করছি কিন্তু স্কুলে স্যাররা কী করছেন, বলতে পারছি না। স্কুলে গেছে আর আইছে, ক্লাসের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কুল হয়নি। কখনো ১০টায় গিয়ে ১১টায় চলে এসেছে। কখনো স্যাররা নেই, শিক্ষার্থীরাও চলে এসেছে।’

অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্লাস করানোর মতো শিক্ষক ছিল না। অংক ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও কম হয়েছে। অনেক সময় স্যাররা অল্প সময় ক্লাস নিয়ে ছুটি দিয়ে দিতেন, তাই আমরা চলে যেতাম।’

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়ে জে.কে পঞ্চগ্রাম নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকেরা যদি আরও একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হতেন, তাহলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। হয়ত কিছু ভালো শিক্ষার্থীও পাস করত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করবে না, এটা কখনোই কাম্য নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আট থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, অথচ সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। সেখান থেকে অন্তত তিন-চারজন শিক্ষার্থী পাস করা উচিত ছিল।’

পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল আমরা পর্যালোচনা করছি। ফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মো. তরিকুল ইসলাম/কেজে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow