পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: তৃতীয় পর্ব
খৈয়াম কাদের উল্লিখিত ছড়াগুলোতে শিশু মনোরঞ্জনের প্রয়াস আছে। তবে প্রায় সবগুলো ছড়াই বিষয়বস্তুর দিক থেকে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম তথা রাজনৈতিক ইস্যুকেই মুখ্য হিসেবে ধারণ করেছে। ‘ছররা ছুট্’ কেন্দ্রিক ছড়াচর্চা ছাড়াও বগুড়ার কোনো কোনো ছড়াকারের নিজস্ব ছড়াগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। >> বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার বিশিষ্ট ছড়াকার সুজ্জাত আলী। ১৮৮০ সালে তিনি বগুড়া জেলার তেলীহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র ছড়ার বই ‘চাঁদের হাট’। আবদুল মান্নান সৈয়দ, আবিদ আজাদ ও শাহাবুদ্দীন নাগরী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের ছড়া’ (১৯৮৮) গ্রন্থের দীর্ঘ ভূমিকায় এই ‘চাঁদের হাট’-এর কথা বেশ গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। >> বগুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করা আরেক ছড়া রচয়িতা সুলতানা রাহমান (১৯২৪)। ১৯৭৭ সালে মুক্তধারা (স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ) ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়াগ্রন্থ ‘কাকের ছা বকের ছা’। সুলতানা রাহমানের এই বইয়ের দুটি ছড়াংশ নিম্নরূপ— কাকের ছা, বকের ছাকঁচি ঠোঁটে ফাঁকসেই ফাঁকে উড়ে বেড়ায়টিয়াপাখির ঝাক।টিয়াপাখির মুখেমুখেতোমরা শিখাও বোল,বোল শিখাতে মায়ের ভাষামিষ
খৈয়াম কাদের
উল্লিখিত ছড়াগুলোতে শিশু মনোরঞ্জনের প্রয়াস আছে। তবে প্রায় সবগুলো ছড়াই বিষয়বস্তুর দিক থেকে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম তথা রাজনৈতিক ইস্যুকেই মুখ্য হিসেবে ধারণ করেছে। ‘ছররা ছুট্’ কেন্দ্রিক ছড়াচর্চা ছাড়াও বগুড়ার কোনো কোনো ছড়াকারের নিজস্ব ছড়াগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়।
>> বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার বিশিষ্ট ছড়াকার সুজ্জাত আলী। ১৮৮০ সালে তিনি বগুড়া জেলার তেলীহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র ছড়ার বই ‘চাঁদের হাট’। আবদুল মান্নান সৈয়দ, আবিদ আজাদ ও শাহাবুদ্দীন নাগরী সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের ছড়া’ (১৯৮৮) গ্রন্থের দীর্ঘ ভূমিকায় এই ‘চাঁদের হাট’-এর কথা বেশ গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে।
>> বগুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করা আরেক ছড়া রচয়িতা সুলতানা রাহমান (১৯২৪)। ১৯৭৭ সালে মুক্তধারা (স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ) ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়াগ্রন্থ ‘কাকের ছা বকের ছা’। সুলতানা রাহমানের এই বইয়ের দুটি ছড়াংশ নিম্নরূপ—
কাকের ছা, বকের ছা
কঁচি ঠোঁটে ফাঁক
সেই ফাঁকে উড়ে বেড়ায়
টিয়াপাখির ঝাক।
টিয়াপাখির মুখেমুখে
তোমরা শিখাও বোল,
বোল শিখাতে মায়ের ভাষা
মিষ্টি কলরোল। (মায়ের ভাষা ১)
ইলশেগুঁড়ি, ইলশেগুঁড়ি
বৃষ্টি কেমন ঝরছে
খোকার পাতে একটা দুটো
ইলিশ ভাজা পড়ছে।
ইলশেগুঁড়ি সরষে বুড়ি
হলুদ বরণ রঙখানা
খুকুর মুখে সুড়সুড়ি দেয়
চুমকুড়িতে নেই মানা।
>> কবি, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও শিশু নাট্যকার হাসনা আকরামের (১৯৩৩-বর্তমান) বিখ্যাত ছড়াগ্রন্থ ‘ছবি দেখে ছড়া’র প্রথম প্রকাশ ১৯৭৮, দ্বিতীয় প্রকাশ ১৯৮২ এবং তৃতীয় প্রকাশ ১৯৮৯ সালে। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জা করেছিলেন বগুড়ার প্রখ্যাত ভাস্কর খন্দকার আমিনুল করিম দুলাল। ‘ছবি দেখে ছড়া’ থেকে একটি ছড়া—
অ
অবুঝ শিশুর সবুজ মন
খেলছে খুকু সারাক্ষণ
আ
আমের বোঝা দুলছে ডালে
মনটা নাচে নেবার তালে
ই
ইলিশ মাছের গন্ধে
মন ভরে আনন্দে
ঈ
ঈগল পাখি উড়ে যায়
মেঘের ডাকে ভয় পায়।
>> বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট রম্যলেখক লুৎফর রহমান সরকারের (১৯৩৪-২০১৩) জন্ম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানি এলাকায়। বাংলা ছড়াসাহিত্যে তাঁর অবদান অসামান্য। সালেম সুলেরী, আবদুল মান্নান সৈয়দ-আবিদ আজাদ-শাহাবুদ্দীন নাগরী, আহমদ মতিউর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, আহমদ সাকী, রাশেদ হোসেন, এখলাস উদ্দিন আহমদ ও লুৎফর রহমান রিটন সম্পাদিত বিভিন্ন ছড়া-পত্রিকা ও সংকলনে লুৎফর রহমান সরকারের অনেক ছড়া প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয় ছড়াগ্রন্থ ‘টিয়ে পাখির বিয়ে’ থেকে এখানে একটি ছড়া তুলে ধরা হলো—
টিয়ে পাখির বিয়ে
টিয়ে পাখির বিয়ে হবে
সাজতে বসেছে
লাল টুক্ টুক্ গায়ে অনেক
গয়না পড়েছে।
আলতা দিয়ে পা দু’টি তার
রাঙা করেছে,
তাই না দেখে ময়না পাখি
গান যে ধরেছে।
গাছের ডালে কাঠবিড়ালি
নাচতে লেগেছে,
নিচে ব’সে নেংটি ইঁদুর
ঢোলক ধরেছে।
হুতুম পেঁচা চোখটি বুজে
ভাবতে লেগেছে,
কনে যে তার টিয়ে পাখি
বড়ই সেজেছে।
• বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটেন প্রবাসী কবি, গাল্পিক, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সালেহা চৌধুরীর (১৯৪৩-বর্তমান) ছড়ার বই ‘জুডাস এবং তৃতীয় পক্ষ’। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। এই বইয়ের একটি ছড়া—
সমব্যথা
রহিম মিয়ার একজোড়া বউ
মাঠে লাঙ্গল টানে
দুপুর রাতে রহিম মিয়া
মাঠের কাজে নামে।
দিনের বেলা বন্ধ বাড়ি
শরিয়তি শিক্ষা করে রহিম মিয়ার নারী।
হঠাৎ হঠাৎ চেলা কাঠে
পিঠে কালশিরা
মাথার ব্যথা রক্তবমি
হায়রে আল্লার কিরা।
দুই নারীতে যখনতখন
গলা ধ’রে কাঁদে
দুই সতীনে এমন ভাব
বিশ্বলোকে ভাবে।
>> বিংশ-শতাব্দীর সত্তর দশকের উল্লেখযোগ্য ছড়াকবি আলতাফ আলী হাসু (১৯৫০-২০০০)। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছড়া সংকলন ‘নির্বাচিত ছড়া’ (২০০০) এবং দ্বিতীয় ছড়াগ্রন্থ ‘নড়নচড়ন হালকা গড়ন’ (বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ঢাকা-২০০৪)। আ.খ.ম. শাহজাহান বাচ্চু, আহমদ মতিউর রহমান, জোবেদা খানমসহ অনেক সম্পাদকের পত্রিকায় তাঁর ছড়া প্রকাশ পেয়েছে। আলতাফ আলী হাসুর ছড়া নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন উদয়ন চৌধুরী, বেলাল চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম বেদু, আহমদ ছফা, আখতার হুসেন, মুনতাসীর মামুন, নূহ-উল-আলম লেনিন, মোরশেদ শফিউল হাসান, সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, ফরিদুর রহমান, খালেদ বিন জয়েন উদ্দিন এবং মাহমুদ উল্লাহর মতো গুণী মানুষেরা। তাঁর একটি ছড়া পড়ে নেওয়া যাক—
রাজকন্যে কমলাবতী
রাজকন্যে কমলাবতী
কখন কী তার হয় যে মতি
চাঁদ তারাদের আদর করে
সূর্যকে কয় বাড়াও গতি।
দেখতে বেজায় চমৎকার
সেই কন্যের গলার হার
সেই কন্যে যখন কাঁদে
থামায় তাকে সাধ্য কার?
>> বগুড়ার সত্তর দশকের আরেক শক্তিমান ছড়াকার ও ছড়াপত্রিকা-সম্পাদক জি. এম. হারূন (১৯৫০-বর্তমান)। তাঁর সম্পাদিত ছড়াপত্রিকা ‘ছড়াবাজ’-এর এপ্রিল ২০০২ থেকে জুলাই ২০০২ পর্যন্ত মোট তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। জি. এম. হারূনের ছড়াগ্রন্থগুলো- ‘হেই সামালো’ (১৯৯১), ‘ছড়া বোল’ (১৯৯১) ও ‘বত্রিশ ভাজা’ (২০০২)। তাঁর একটি ছড়া—
নতুন দিনের পাঠ
সোনা ধানে ভরা ক্ষেত
সবুজ ঘাসে মাঠ
খুকুর হাতে দিলেম তুলে
নতুন দিনের পাঠ।
পরবর্তীতে আশি ও নব্বই দশক থেকে বর্তমান সময় নাগাদ বগুড়ায় আরও অনেকেই ছড়াসাহিত্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং করছেন। সাজ্জাদ বিপ্লব বের করতেন ‘লিমেরিক’, আরিফ বখতিয়ার সম্পাদনা করতেন ‘ছড়াড্ডা’ এবং এ কে আজাদ, রফিক রইচ ও মাহফুজুর রহমান আখন্দের ছড়া নিয়ে এ কে আজাদ সম্পাদনা করেছেন ছড়াসংকলন ‘ছড়া মাইট’ (২০১০) ও ‘কাঁটাতার’ (২০১১)। এ ছাড়া আজাদের নিজের লেখা চারটি ছড়ার বই রয়েছে। সেগুলো হলো- ‘মায়ের আঁচল গাঁয়ের ছায়া’ (২০০৯), ‘ইষ্টি ছড়া মিষ্টি ছড়া’ (২০১১), ‘রক্তে লেখা সূর্য-হাসি’ (২০১২) ও ‘টিন টিনা টিন’ (২০১৩)। সাজ্জাদ বিপ্লব ও এ কে আজাদের একটি করে ছড়া—
সাজ্জাদ বিপ্লব (১৯৭১-বর্তমান)
টোপনের ভাবী
করে নাকি দাবী
আঁচলে বাঁধা তার
আদরের চাবী।
রিনিদের ভাই
সাহসী যে তাই
পাপ পথ ছেড়ে বলে
সৎ পথে যাই।
সুমনের বাবা
খেলে ভালো দাবা
চেক দিতে রাজাকে সে
মেলে দেয় থাবা।
এ কে আজাদ (১৯৭৮-বর্তমান)
এই শহরে বিগ বহরে
কত্ত কিছু ঘটে যায়,
কখন দেখি সময় পাগল
যত্ত কিছু রটে যায়।
কেউ বা ঘোরে সাতমাথাতে
কেউ বা ঘোরে খান্দারে,
পিস্তলেরই ডগায় ডগায়
কেউ বা তোলে চান্দারে।
কার হাঁকিয়ে কেউ বা চলে
ফুলিয়ে বুকের ছাতি
পয়সাভাবে কারোর আবার
দিবসটা হয় রাতি।
নব্বই-দশকের কবি খৈয়াম কাদেরের (১৯৬৩) ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়া ছড়া ছড়া’। এই গ্রন্থের দুটি ক্ষুদ্র ছড়া নিম্নরূপ—
একুশ সেরা গল্প
একুশ নিয়ে অনেক কথা, একুশ সেরা গল্প
একুশ হলো সুর-লহরী তবু যেনো অল্প
একুশ আমার শিল্পকলা, একুশ মহাকাব্য
একুশ হলো মূল অভিধান সবার কাছে শ্রাব্য।
দ্বন্দ্ব বড় মন্দ কাজ
দ্বন্দ্ব বড় মন্দ কাজ আর করো না ভাই
জাতপাত ভুলে এসো এক সুরে গান গাই,
সব মানুষই সমান রে ভাই জগত-সেরা সৃষ্টি
তাদের নিয়ে করো না আর কোনো অনাসৃষ্টি।
বগুড়ায় হালকালের জনপ্রিয় ছড়াকার আমির খসরু সেলিম। সেলিম খুব পরিশ্রমী সাহিত্য সংগঠকও বটে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সময়ের বাংলা-ছড়া জগতে সেলিমের পরিচিতি বেশ বিস্তৃত। তার ছড়াগ্রন্থের নাম ‘এইটা ছড়ার বই’। সেলিমের একটি ছড়া—
আমি যদি হাতি এঁকে
জুড়ে দেই ডানা
সেই হাতি উড়ে যাক
নেই কোনো মানা।
আমি যদি ফুল এঁকে
জুড়ে দেই পা
ফুল তুই হেঁটে হেঁটে
বেড়াতেই যা।
বড়দের কথা শুনি
কতো কড়া কড়া
আঁকবার খাতা থাক
স্বাধীনতা ভরা।
পরিশ্রমী শিশু সংগঠক আব্দুল খালেক। একুশ শতকের গোড়ার দিক থেকে তিনি ‘কুঁড়ি’ নামে একটি শিশু-পত্রিকা প্রকাশ করছেন। এতে ছড়াই বেশি ছাপা হয়। তার একটি ছড়া—
বিল্লি হলো বাঘ
বিল্লি নাকি জেদ ধরেছে
মিঁয়ো মিঁয়ো ব’লে
সারা পাড়া বেড়াতে চায়
চড়ে খুকির কোলে।
ধমক দিলে রাগ করে না
মিটিমিটি হাসে
বকা দিলে অভিমানে
খুকখুক্ কাশে।
তার ভাষা যে কেউ বোঝে না
ওই খোকারা ছাড়া
পথের বিল্লি নিলো ঘরে
দুষ্টু ছেলে যারা।
আজিজার রহমান তাজ একজন নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যসেবী। প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি ‘মল্লিকা’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করে চলেছেন। কবি তাজ অনেক ছড়াও লিখেছেন। তার একটি ছড়া—
চকোলেট
যত জল দাও মাথায়
ঠাণ্ডা হবে না,
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দাও
একটুও ছোঁবে না।
গোস্বা বাড়বেই
যত হবে লিট
নিমিষেই মিটমাট
পেলে চকোলেট।
বগুড়ায় আরও অনেক ছড়াকার রয়েছেন, যাদের কারোর কারোর ছড়ার বই আছে, কারোর কারোর নেই। কিন্তু বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাদের ছড়া প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া কবি কে. এম. শমশের আলী (১৯০৭-১৯৯৮), শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ডা. কসির তালুকদারের কন্যা জেব-উন-নেসা জামাল (১৯২৬-১৯৮৫), মনোজ দাশগুপ্ত (১৯৪৯-১৯৯৭), আব্দুর রশীদ, আবদুস সাত্তার বগুড়ী (১৯৫১-বর্তমান), দেওয়ান সায়েদুর রহমান ভিটু, কাজী রব, রায়হান রাহমান, খন্দকার বজলুর রহীম, রতন খান, কমল কুমার সরকার, স্বভাবকবি আব্দুর রউফ, শেখ ফিরোজ আহমদ বাবু, এফ. শাহজাহান, মাহমুদ শাওন, কমল লোদী, আফরোজা মুজিব ঝর্ণা, রুমা রহমান, প্রতত সিদ্দিক, মাসুদ কামাল, রাহমান তাওহীদ প্রমুখ। এ তালিকা থেকে কয়েকজনের একটি করে ছড়া বা ছড়াংশ উপস্থাপন করা হলো।
১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘এসো ছড়া পড়ি’-তে মুদ্রিত কে. এম. শমশের আলীর একটি ছড়ার অংশবিশেষ—
খুকুমণি
নানান রকম খেলনা নিয়ে
খেলা করে খানিক
ঘুমিয়ে গেছে সোনা আমার
ঘুমিয়ে গেছে মানিক।
১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলা একাডেমি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ধানশালিকের দেশ’-এ ছাপানো জেব-উন-নেসা জামালের একটি দীর্ঘ ছড়ার কয়েকটি লাইন—
শিংওয়ালা জানোয়ার নাম তার গণ্ডার
ভাবতে পারো কি সে-ই সিটে বসে হোন্ডার,
চশমাটা চোখে দিয়ে, হাতে পরে হাত ঘড়ি
সব্জি-বাজার-পানে ছুট্ দেয় তড়িঘড়ি?
মনোজ দাশগুপ্ত (১৯৪৯-১৯৯৭)
ডামাডোলের তুলকালামে
যতই ঢাকো পথ
ফাঁদের মন্ত্র ফাঁস হলেই
বেজায় মুসিবত।
আবদুস সাত্তার বগুড়ী
বাঘ ভয়
বাঘ এসেছে বাঘ
ভাগ রে সবাই ভাগ
দিচ্ছে ঘাড়ে লাফ
ওরে বাপরে বাপ।
করছো কিসের ভয়
বাঘ তো সেটা নয়
বাঘডাসা নাম ওর
নেই যে তত জোর।
রায়হান রাহমান (১৯৫৬-বর্তমান)
স্বর ঝুমঝুম ভাষার ডাক
দিচ্ছে একুশ দিচ্ছে হাঁক
উৎসব নয় আর লড়বো
ভাষার ছড়া গরবো।
কাজী রব (১৯৪৭-১৯৯৬)
এই তো আমি তোমার কাছে
তোমার কাছে জ্যোস্না বুকে
পদ্মাপাড়ের দামাল ছেলে
অবাক ভ্রমর তোমার চোখে।
কাস্তে হাতে মাথাল মাথে
শর্ষে ক্ষেতের লাজুক আলে
দীপ্ত মাঝি এইতো আমি
নৌকা ডুবির মরণখালে।
খন্দকার বজলুর রহীমের (১৯৪৩-বর্তমান) একটি ছড়াংশ—
ধাপার মাঠের কাক
ছাড়লো বক বক ডাক
পড়লো সে প্যান্ট কোট
বেঁকিয়ে নিজের ঠোঁট
দেমাক করে জোর
অহংকারে ওর
অন্য কাকের দল
করবে কী আর বল।
আফরোজা মুজিব ঝর্ণা
জাত কুল বংশ নেই জানা প্রয়োজন
মানুষ হবার গুণ যদি করো অর্জন
জানের চেয়ে মান বড় মনে রেখো কথা
কোনো ভাবেই কারো প্রাণে দিও না ব্যথা।
রতন খান (১৯৫৫-বর্তমান)
শান্তি নামের বস্তুটাকে
খুঁজছি আমি অনেকদিন
পেলে তারে হাতের মুঠোয়
নেচে যেতাম তাধিন্ ধিন্।
তোমরা কি কেউ বলতে পারো
শান্তি বিকায় কোন্ হাটে
খুঁজছি তারে বন-বাদারে
খুঁজছি মাঠে ঘাটে।
প্রতত সিদ্দিক
দুষ্টু ছেলে মিষ্টি মুখে
যখন তখন ওঠে ক্ষেপে
দাদার মতো মেজাজ তার
কথা বলে মেপে।
মুখখানি তার চিকন চাকন
কচি বাঁশের পাতার মতন
চুল যেনো তার মেঘ-বাগিচা
মুখের কথা টক করমচা!
চলবে...
- আরও পড়ুন
পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: প্রথম পর্ব
পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: দ্বিতীয় পর্ব
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাবেক উপাধ্যক্ষ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।
এসইউ
What's Your Reaction?