পুনঃখননে মৃতপ্রায় খালে প্রাণের জোয়ার, স্বস্তিতে ফুলবাড়িয়াবাসী

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের মৃতপ্রায় দবরসস্তা-মলঙ্গী খাল এখন নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ার পথে।  জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চলমান খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মলঙ্গী খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ চলছে।  পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। গত ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।  প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।  সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন অংশে পানি থাকলেও খনন কার্যক্রম থেমে নেই।  খননযন্ত্র ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।  এ প্রকল্পের মাধ্যমে

পুনঃখননে মৃতপ্রায় খালে প্রাণের জোয়ার, স্বস্তিতে ফুলবাড়িয়াবাসী
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের মৃতপ্রায় দবরসস্তা-মলঙ্গী খাল এখন নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ার পথে।  জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চলমান খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মলঙ্গী খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ চলছে।  পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। গত ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।  প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।  সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন অংশে পানি থাকলেও খনন কার্যক্রম থেমে নেই।  খননযন্ত্র ও শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।  এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর খালটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করত। ফলে কৃষিজমিতে পানি জমে থেকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো। পুনঃখনন শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা ও প্রকল্পের শর্ত মেনে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কয়েক গ্রামের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমরা আশা করছি।’ কৃষক আব্দুল কাদের জানান, বর্ষাকালে জমির পানি নামতে না পারায় প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হতো। খালটি পুনঃখনন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, প্রকল্পের শুরুতে খননকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের কিছু অভিযোগ ওঠে।  সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।  এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে খননকাজ আরও সুষ্ঠু ও মানসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল হক বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ দীর্ঘদিনের অবহেলায় হারিয়ে যাওয়া খালের নাব্যতা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফুলবাড়িয়ার মানুষের মাঝেও জেগেছে নতুন আশার আলো।  স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow